‘নিরামিষ খাবার খাওয়া জাতীয়তাবাদবিরোধী’

দুনিয়াজুড়ে নিরামিষ খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধকোটির বেশি মানুষ নিরামিষভোজী। নিরামিষভোজীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি কম। তবে ভারতের খ্যাতনামা দলিত লেখক কাঞ্চা ইলাইয়া বলছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তার মতে, নিরামিষ খাবার খাওয়া জাতীয়তাবাদবিরোধিতার শামিল। বৃহস্পতিবার বিআর আম্বেদকারের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

কাঞ্চা ইলাইয়া বলেন, ‘নিরামিষ খাবার খাওয়া জাতীয়তাবাদবিরোধী। যদি পুরো জাতি নিরামিষভোজীতে পরিণত হয় তাহলে তাদের প্রোটিনের মাত্রা কমে যাবে। আপনি কি জানেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন সব খেলায় জিতে? এর কারণ হচ্ছে তারা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খায়।

দলিত লেখক কাঞ্চা ইলাইয়া

নিজের বক্তব্যে চীন, কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেন কাঞ্চা ইলাইয়া। তিনি বলেন, এসব দেশের মানুষ গরুর মাংস, শূকরের মাংস, মাছ ও ব্যাঙের মতো খাবার খায়। কিন্তু খাদ্যাভাসে প্রোটিনের অভাবে ভারতীয়দের তাদের মতো পরিপূর্ণ হতে পারে না।

উল্লেখ্য, ভারতে বহু হিন্দু রয়েছেন যারা নিষ্ঠাবান নিরামিষভোজী। তারা আমিষ খাদ্যকে তাদের ধর্মবিরোধী বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, নিরামিষ খাবার অর্থাৎ শাকসবজির ডায়েট অন্যান্য সকল ডায়েটের তুলনায় বেশি কার্যকরী। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির পথ্য বিশেষজ্ঞ এবং পুষ্টি ও পথ্যব্যবস্থাবিষয়ক একাডেমির মুখপাত্র জয় ডুবস্ট। তিনি বলেন, নিরামিষভোজীদের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, তাঁদের স্বাস্থ্য আমিষভোজীদের তুলনায় খারাপ নয়। নিরামিষভোজীরা পাঁচ রকমের চেয়েও বেশি ফলমূল ও শাকসবজি খেয়ে থাকেন। সূত্র: দ্য হাফিংটন পোস্ট।

/এমপি/