হিমালয় পর্বতমালায় তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে আকস্মিক প্রলয়ঙ্করি বন্যা এবং ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে ওই অঞ্চলের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। খবর বিবিসি।
বৃহস্পতিবার সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিব্বতের এই আধ্যাত্মিক নেতা বলেন, “বিধ্বংসী বন্যার খবর শুনে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। যারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাদের সবার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও অনুভূতি প্রকাশ করছি।”
এই অঞ্চলটি অতীতেও একাধিকবার প্রকৃতির মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে ৮৯ বছর বয়সী এই বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা বলেন, “যেহেতু এই অঞ্চলে অতীতেও এমন বিপর্যয় ঘটেছে, তাই এগুলো নিশ্চিতভাবেই কোনও গভীর মৌলিক কারণের লক্ষণ— তা হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন অথবা অন্যান্য কোনও পরিবেশগত কারণ। আমি আশা করি, পরবর্তীতে যথোপযুক্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে তিব্বত ত্যাগ করার পর থেকে দালাই লামা ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিনি তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন, যদিও চীন তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তিব্বত সীমান্ত ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে যখন শত শত পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানালেন এই পরম শ্রদ্ধেয় ধর্মগুরু।