যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় কাতারএনার্জি ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) কার্গো বাতিলের ঘটনা অব্যাহত থাকবে।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্লুমবার্গ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কাতারএনার্জি পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে যে এলএনজি কার্গো বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছেন।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময়সীমা নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
এডিসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে এপ্রিলের শুরু থেকে কার্যকর থাকা ফোর্স মেজরের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়বে।
এডিসনের হিসাবে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টি। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য তারা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।
এদিকে কাতারের এলএনজি রফতানি এখনও মারাত্মকভাবে সীমিত থাকার মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দোহা পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এরপর মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
জুলাই মাসে কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেকায়্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। জাহাজটির বাম পাশের অংশে আঘাত লাগে এবং পরে এর ক্রু সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।