মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলটি থেকে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, বাজারের এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার তেলের সূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের নতুন দর
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম ব্যারেল প্রতি ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে। এর আগের সেশনেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে চরম ঝুঁকি
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও নতুন সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই দরবৃদ্ধি ঘটে। বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে এটিই প্রধান অনুঘটক।
জাহাজ চলাচলের তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে মাত্র ৫টিতে নেমে এসেছে। অপরদিকে মঙ্গলবারও এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকার তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও।
ভেনিজুয়েলার তেল চুক্তির প্রভাব
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের এ অনিশ্চয়তার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) পূরণ করতে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে তেল চুক্তি জোরদার করছে। মার্কিন জ্বালানি সংস্থা শেভরন এবং ভারত, ইতালি ও কলম্বিয়ার একাধিক তেল কোম্পানি ভেনিজুয়েলায় চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ কমে ২৮৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে, যা গত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, শিপিং রুট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংকট নিরসন না হলে ২০২৬ সাল জুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের ওপরেই বহাল থাকবে।