ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, নতুন হামলার ইঙ্গিত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ৭ দিনের মধ্যে পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের দেওয়া শর্ত সাপেক্ষে এমন কোনও চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। খবর বিবিসি। 

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান মারাত্মক চাপে পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেই হুট করে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার চুক্তি করতে চাইছে। 

ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের প্রস্তাবটি খারিজ করে দিচ্ছি। তারা চুক্তি করতে চায়, আর আমি চুক্তি পছন্দ করি। কিন্তু এই চুক্তিটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কৌশলগত ওই প্রণালি বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং সেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন অব্যাহত আছে।

এর আগে জাতিসংঘে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, গত জুন মাসে পাকিস্তানে যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সেটি মেনে চললেই আগামী ৭ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ওই চুক্তিতে মার্কিন ব্লকেড প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং উভয় পক্ষের হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তা কার্স্টেন ফন্টেনরোজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুনের সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিতে একটি ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে আবারও নতুন করে বোমাবর্ষণ অভিযান শুরু করতে পারেন।

এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি বন্ধ বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত থাকায় তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সামনে নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসীয় নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পের ওপর যেমন অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, ঠিক তেমনই ইরানও মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধে বিপর্যস্ত।

অপরদিকে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত অংশ দখল করে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেল রফতানি পণ্ড করার চেষ্টা জোরদার করেছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।