যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিনেট আসনে জয় পেয়েছে বিরোধী দল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করেছে।
নির্বাচনের আগে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা যায়, ভোটারদের বড় অংশ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন।
প্রাথমিক ফলাফলে জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায়ও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে একটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
তবে সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে আরও ভোট গণনার প্রয়োজন ছিল। প্রতিনিধি পরিষদের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ বাড়তে পারে।
এদিকে নির্বাচনের দিন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা হুমকি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে। তবে এসব ঘটনার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে ভোটগ্রহণ অব্যাহত ছিল।
নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রকাশিত ও চূড়ান্ত না হওয়ায় কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: আরটি, রয়টার্স, এপি