সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দায়িত্বে থাকা আঞ্চলিক পরিচালক এবং স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের উত্তরসূরি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এমন এক সময়ে সংস্থাটির নেতৃত্ব নিয়ে এই লড়াই শুরু হয়েছে, যখন তীব্র আর্থিক সংকট ও ভূরাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ডব্লিউএইচও।
২০২৭ সালের আগস্ট থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ পদে সদস্যদেশগুলো সাতজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছে।
প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্বে থাকা দুই আঞ্চলিক পরিচালক, কাতারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের একজন চিকিৎসক ও ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, চীনের একজন স্বাস্থ্যনীতি প্রশাসক এবং বতসোয়ানার মনোনীত আর্মেনীয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।
২৯ অক্টোবর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা; এসব বিষয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এই নির্বাচন সংস্থাটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
প্রার্থীরা হলেন কাতারের ড. হানান মোহাম্মদ আল-কুওয়ারি, সৌদি আরবের ড. হানান বালখি, বেলজিয়ামের ড. হান্স হেনরি পি. ক্লুগে, স্পেনের ড. মারিয়া পি. নেইরা, ইন্দোনেশিয়ার বুদি গুনাদি সাদিকিন, চীনের ড. লি সং এবং বতসোয়ানার মনোনীত ড. গেভর্গ তামামিয়ান।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হানান বালখি এবং ইউরোপ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হান্স হেনরি পি. ক্লুগে মহাপরিচালক পদে নির্বাচনী প্রচারের সময় দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন।
নতুন মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১৫ আগস্ট। পরদিনই নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ড. হানান মোহাম্মদ আল-কুওয়ারি (কাতার)
স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা ও সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. হানান মোহাম্মদ আল-কুওয়ারির। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি কাতারের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হামাদ মেডিক্যাল করপোরেশনের নেতৃত্ব দেন।
যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় পিএইচডি করেছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩–২৪ মেয়াদে ওই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
মন্ত্রণালয় ছাড়ার পর কাতারের প্রধানমন্ত্রীর জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতাই তার প্রার্থিতার মূল ভিত্তি।
ড. হানান বালখি (সৌদি আরব)
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. হানান বালখি।
সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ এই শিশু চিকিৎসক ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সবিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক ছিলেন।
সংক্রমণ প্রতিরোধ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
বর্তমান দায়িত্বে থেকে তিনি এমন একটি অঞ্চলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম তদারক করছেন, যেখানে সংঘাত, মানবিক সংকট এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।
ড. হান্স হেনরি পি. ক্লুগে (বেলজিয়াম)
২০২০ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. হান্স হেনরি পি. ক্লুগে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে জনস্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে কাজ করা এই পারিবারিক চিকিৎসক আগে মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়েরের (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যক্ষ্মা ও এইচআইভি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগেও কাজ করেছেন তিনি।
২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ছিলেন ক্লুগে।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে ইউরোপ অঞ্চলের কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। এতে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে তার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
ড. মারিয়া পি. নেইরা (স্পেন)
চিকিৎসক ড. মারিয়া পি. নেইরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার কাজের প্রধান ক্ষেত্র পরিবেশগত স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনস্বাস্থ্যনীতি।
তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে স্পেনে জনস্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। এসবের মধ্যে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ভোক্তাবিষয়ক উপমন্ত্রীর দায়িত্বও রয়েছে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়েরের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, দূষণ এবং রোগের পরিবেশগত কারণ নিয়ে কাজের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
বুদি গুনাদি সাদিকিন (ইন্দোনেশিয়া)
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুদি গুনাদি সাদিকিন।
অন্য অধিকাংশ প্রার্থীর তুলনায় তার পেশাগত পরিচয় আলাদা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোনো ক্লিনিক্যাল পটভূমি নেই তার। সাবেক ব্যাংকার ও করপোরেট নির্বাহী সাদিকিন ইন্দোনেশিয়ার কোভিড-১৯ মোকাবিলা, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবায় অর্থায়ন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চাপে রয়েছে, তখন তার প্রার্থিতা ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করছে।
ড. লি সং (চীন)
স্বাস্থ্য প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. লি সং।
এর আগে তিনি চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের নারী ও শিশুসেবাবিষয়ক বিভাগের প্রধান ছিলেন। মাতৃ ও শিশুসাস্থ্যনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। সার্স ও কোভিড-১৯সহ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন লি সং।
বর্তমানে তিনি অল-চায়না উইমেনস ফেডারেশনের সচিবালয়ের একজন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রশাসনে নিজেদের ভূমিকা আরও বাড়াতে বেইজিং যখন সক্রিয়, তখন তার মনোনয়ন সামনে এলো।
ড. গেভর্গ তামামিয়ান (বতসোয়ানার মনোনীত)
ড. গেভর্গ তামামিয়ান আর্মেনিয়ার একজন শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও চিকিৎসা গবেষক। ক্যানসার এবং রক্তের রোগ নিয়ে তার বিশেষজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি আর্মেনিয়ার পেডিয়াট্রিক ক্যানসার অ্যান্ড ব্লাড ডিজঅর্ডারস সেন্টারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ইয়েরেভান স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক শিশু ক্যানসার চিকিৎসা খাতেও নেতৃত্বের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তার প্রার্থিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যার দেশ তাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি সেই দেশের নাগরিক নন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্র চাইলে নিজ দেশের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিকেও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারে।
চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে তামামিয়ান এই প্রতিযোগিতায় ক্যানসার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়টি সামনে আনছেন। অন্য প্রার্থীদের অধিকাংশই জ্যেষ্ঠ প্রশাসক ও সরকারি কর্মকর্তা।
গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিযোগিতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য কঠিন এক সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর্থিক সংকট, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমে যাওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কর্মসূচি চালু রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ার ফলে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নতুন মহাপরিচালকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ধরে রাখা এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিনির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করা।
প্রার্থীদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কাজের ক্ষেত্র থেকে তাদের সম্ভাব্য অগ্রাধিকারের ভিন্নতা স্পষ্ট। কারও অভিজ্ঞতার কেন্দ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, কারও জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য, আবার কারও অর্থায়ন কিংবা সরাসরি চিকিৎসাসেবা।
তবে শুধু মনোনয়নের ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা কোনো প্রার্থীকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কার পক্ষে কতটা সমর্থন আদায় করা সম্ভব হয়, তার ওপরই ফল নির্ভর করবে।
যেভাবে হবে নির্বাচন
১৮–১৯ নভেম্বর ২০২৬: সাত প্রার্থী জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরে প্রথম প্রার্থী ফোরামে অংশ নেবেন। সেখানে সদস্যরাষ্ট্র ও সহযোগী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারা। সংস্থাটির ছয়টি সরকারি ভাষায় ফোরামটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
জানুয়ারি ২০২৭: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের ১৬০তম অধিবেশনে পাঁচজন প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হবে। তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বিবেচনার জন্য সর্বোচ্চ তিনজনের নাম মনোনয়ন দেওয়া হবে।
১৫ মার্চ ২০২৭: নির্বাহী বোর্ডের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় প্রার্থী ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।
মে ২০২৭: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির ৮০তম অধিবেশনে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ করা হবে। এতে সংস্থার সব সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
১৬ আগস্ট ২০২৭: নির্বাচিত প্রার্থী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার নেতৃত্বেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহযোগিতার পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।