হাভানা কনভেনশন সেন্টারে ক্যাস্ত্রোর ভাষণ শুনতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৩ শ’ দলীয় কর্মী। প্রায় পাঁচ দশক ধরে কিউবার ক্ষমতায় থাকা ক্যাস্ত্রো এই কনভেনশন সেন্টারে এর আগেও অসংখ্য দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন। মঙ্গলবারের ভাষণে ক্যাস্ত্রো বলেন, ‘শিগগিরি আমি ৯০ বছরে পা দেব। সবার সময় ফুরিয়ে যায়, দ্রুতই আমি অন্য যে কারো মতোই অতীত হয়ে যাব। হয়তো আমার এই ঘরে কথা বলা এবারই শেষ। কিন্তু কিউবার কমিউনিস্ট আদর্শ রয়ে যাবে।’ কিউবার অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বুকে প্রমাণ হিসেবে রয়ে যাবে যে, কঠোর পরিশ্রম করলে ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করলে মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সংস্কৃতি সৃষ্টি করা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: জিকার শঙ্কা থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও!
তিনি আরও বলেন, ‘ল্যাটিন আমেরিকান বন্ধুদেরকে এবং বিশ্ববাসীকে আমাদের জানাতে হবে, কিউবার মানুষ বিজয়ীই থাকবে।’
১০ বছর আগে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় যেমন অসুস্থ ছিলেন, হাভানা কনভেনশন সেন্টারে সেই তুলনায় অপেক্ষাকৃত সমর্থ দেখাচ্ছিলো ক্যাস্ত্রোকে। তিনি নীল একটি ট্র্যাকস্যুট জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে সামান্য কর্কশ কিন্তু সবল কণ্ঠে বক্তৃতা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইরানের জব্দকৃত ২ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছেন ১৯৮৩ সালে নিহত মার্কিন সেনারা
বক্তৃতায় পার্টির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রবীণ এই নেতা। বিশেষত কমরেড রাউল ক্যাস্ত্রোকে তার ভুমিকার জন্য অভিনন্দন জানান তিনি। যদিও রাউলের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কিউবা সফরকে সমর্থন করেননি ফিদেল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কিউবায় সমালোচনার মুখে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির শাসন। এ নিয়ে অনেকেই হতাশ। বিশেষত নতুন প্রজন্মের কিউবানরা দেশটির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় তরুণ নেতৃত্ব চান। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও পার্টি প্রধান রাউল ২০২১ সালের আগে তরুণ কোন নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
/ইউআর/বিএ/