১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ত্রিশ বছর পর আজও পুরো এলাকাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই সাবেক কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওই পরিত্যাক্ত এলাকায় গিয়ে ছবি তুলেন ফটোগ্রাফার জার্জি ওয়েরজবিকি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-তে কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়। ছবিগুলোতে মানুষজন ওই এলাকাটি ছেড়ে আসার সময়কার স্মৃতিচিহ্ন ফুটে ওঠে। একটি ছবিতে দেখা যায়, এখনও সেখানে তেজস্ক্রিয়তা বিদ্যমান।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১টা ২৩ মিনিটে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ইউক্রেন ও বেলারুশ সীমান্তে অবস্থিত পরমাণু কেন্দ্রটির চতুর্থ রিয়্যাক্টর থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। পারমাণবিক কেন্দ্রে লাগা আগুন ১০ দিন ধরে জ্বলে। এ সময়ে বিপুল পরিমাণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ইউক্রেন, বেলারুশ এবং রাশিয়ায়। এখনও ওই পারমাণবিক কেন্দ্রের ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে কারও প্রবেশের অনুমতি নেই।
আরও পড়ুন: মার্কিন জোটের বিমান হামলায় চারমাসে নিহত মাত্র ২০ বেসামরিক ব্যক্তি!
দুর্ঘটনার সময় চেরনোবিলে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের বসতি ছিল। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ৪ জন কর্মী মারা যান। পরবর্তীতে ২৩৭ জন মানুষ তেজস্ক্রিয়তার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রথম তিন মাসে ৩১ জন মৃত্যুবরণ করেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন উদ্ধারকর্মী।
আরও পড়ুন: আইএসের কারারক্ষী ছিলেন ব্রাসেলসের হামলাকারী!
বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন বলতে গেলে কেউ বাস করেন না।
কোনও কোনও জায়গায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ২১৪.২ মাইক্রোসিভার্টস প্রতিঘন্টা। যা গ্রহণযোগ্য মাত্রার বহুগুন বেশি।
আরও পড়ুন: জিকার শঙ্কা থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও!
প্রিপিয়াতে এক সময় ৫০ হাজার মানুষের আবাস ছিল। দুর্ঘটনার একদিন পরই তা খালি করা হয়।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/