পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার একমাত্র মানসেহরা জেলাতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দুইজন নারীকে। শুধুমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই নয়, সমাজে নারীর অবস্থান পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে চান এই দুই প্রতিশ্রুতিশীল নারী কর্মকর্তা।
অ্যাসিস্টেন্ট সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সোনিয়া শিমরোজ খান এবং অ্যাসিস্টেন্ট ফুড কন্ট্রোলার উজমা শাহকে দেখে অনেক সময়ই অবাক হন স্থানীয়রা। কেননা এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার পদে পুরুষদের দেখেই অভ্যস্ত তারা।কিন্তু এই দুই কর্মকর্তাই তাদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও আত্মোৎসর্গের প্রমাণ রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ একজন নারী ফ্যাশন ডিজাইনারের পোশাকে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের গল্প
এএসপি সোনিয়া শিমরোজ খান বলেন, ‘মেয়েরা দুর্বল আর ছিঁচকাঁদুনে- এমন ধারণাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত।এই ধারণা ভাঙতে চাই বলেই আমি পুলিশে কাজ করতে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েরা এখন সেনাবাহিনী, এয়ারফোর্সসহ অনেক জায়গায় কাজ করছে, কিন্তু পুলিশে আসতে খুব একটা আগ্রহী হয়না। আমি তাদের অনুরোধ করবো- আপনারা পুলিশে আসুন, আমরা সমাজ পরিবর্তন করতে এগিয়ে যাই।’
তিনি আরো বলেন, নারী কর্মকর্তারা নারী বিষয়ক সমস্যাগুলো ভালো বুঝতে পারবেন- এটাই স্বাভাবিক। নারী হিসেবে পুলিশে কাজ করতে সমস্যা হয়েছে, কিন্তু মানসেহরার মানুষও ধীরে ধীরে নারীদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গ্রহণ করতে পারছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সমাজ বদলের মহান উদ্দেশ্যে সংসারধর্মকে জলাঞ্জলী দিয়েছি।’
অ্যাসিস্টেন্ট ফুড কন্ট্রোলার উজমা শাহও এই পুরো প্রদেশের খাদ্য বিভাগের প্রথম নারী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ এখনও নারীকে কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে বা গ্রহণ করতে খুব ইচ্ছুক নয়। কিন্তু আমি আশাবাদী। এই নেতিবাচক মনোভাব দ্রুতই বদলে যাবে। আমি নিয়মিত দোকান-বাজারে অভিযানে অংশ নেই, ভেজাল খাদ্য শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নিই।’
সূত্রঃ ডন
/ইউআর/