অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১২টি সাবমেরিন তৈরি করবে ফ্রান্স। জাপান ও জার্মানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য এসব সাবমেরিন তৈরির কাজ পায় দেশটি। বিশাল এ প্রতিরক্ষা কাজের আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার কোটি ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল মঙ্গলবার ফ্রান্সের সঙ্গে ডুবোজাহাজ নির্মাণসংক্রান্ত চুক্তির কথা জানান। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, এখন দেশটির নৌবাহিনীতে যে ‘কলিন্স ক্লাস’ ডুবোজাহাজ আছে সেগুলো বেশ পুরোনো। এগুলোর পরিবর্তন দরকার।
অস্ট্রেলিয়ার মতো দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য উন্নতমানের ডুবোজাহাজ খুব দরকার বলে মনে করে দেশটির সরকার। কেবল নজরদারিই নয়, চীনের মতো উদীয়মান শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান সুসংহত করতে এবং মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতার জন্যও এসবের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল বলেন, শর্টফিন বারাকুডা ডুবোজাহাজ তৈরি হবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। দেশীয় ইস্পাতই এতে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে অন্তত ২ হাজার ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকেরাই দেশের জন্য এসব ডুবোজাহাজ তৈরি করবেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৫ মাস ধরে কাজটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলেছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন টার্নবুল।
ডুবোজাহাজগুলো নির্মাণের কাজ ফ্রান্সকে দেওয়ার যুক্তি হিসেবে টার্নবুল বলেন, ‘ফ্রান্সের দরপত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ চাহিদা পূরণ করার মতো যথাযথ বিষয় আছে। সে জন্যই তারা কাজটি পেয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিসি, আরেক বসন্তের দ্বারপ্রান্তে মিসর!
এ কাজ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিল জাপান। অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হয়েছে বলে জানিয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল নাকাতানি বলেন, তাঁদের কেন কাজটি দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাইবে জাপান।
আরও পড়ুন: সিনেমা দেখতে গিয়েও শুনতে হবে মোদির ‘গুণ-কীর্তন’!
জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড সোরইয়ো-ক্লাস ডুবোজাহাজ বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। এর ওজন চার হাজার টন, দৈর্ঘ্য ছয় থেকে আট মিটার।
আরও পড়ুন: আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন রকেট ব্যবস্থা ব্যবহার করবে তুরস্ক
মিতসুবিশি বলেছে, এটা খুবই দুঃখজনক যে, জাপানের সক্ষমতা সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়াকে সঠিক ধারণা দেওয়া যায়নি। জার্মানির কোম্পানি টিকেএমএসও চুক্তিটি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
/এমপি/