সরকারবিরোধী ধর্মঘটে সুদানের সাংবাদিকরা

সুদানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন-পীড়নে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) ধর্মঘট ডেকেছে সুদানের সাংবাদিকদের একটি সংগঠন। ‘সুদানিজ জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক’ নামের সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করে। তাদের অভিযোগ, সরকার হরহামেশা সাংবাদিকদের হয়রানির লক্ষ্যবস্তু বানায়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বিক্ষোভের শুরু রুটির দাম তিন গুণ বৃদ্ধির করার সরকারি সিদ্ধান্তের জেরে।49209976_1958767610885371_2283692097636663296_o

গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করছে সুদানের হাজার হাজার নাগরিক। এসব বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় নিহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। সরকারের তরফে ৯ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশলান ৩৭ জন নিহত হওয়ার খবরকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে।

‘সুদানিজ জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক’ বলেছে, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে আমরা ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ থেকে ধর্মঘটের ঘোষণা দিচ্ছি।’  তারা আরও জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরকারের বর্বরচিত আঘাতের প্রতিবাদ করাও এই ধর্মঘটের লক্ষ্য। তারা সুদান সরকারের বিরুদ্ধে সেন্সরশিপ আরোপ করা থেকে শুরু করে পত্রিকা জব্দ করার মতো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।

আল জাজিরা লিখেছে, সুদানের ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি’ নামের সরকারি সংস্থাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। তারাই বর্তমানে সরকার বিরোধীদের দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ সংস্থাটি যখন তখন প্রকাশিত নিবন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংবাদপত্র জব্দ করে।

দেশটিতে চিকিৎসকরাও ধর্মঘটে আছেন গত সোমবার থেকে। দমন-পীড়নের মুখে এ সপ্তাহে শুধু বৃহস্পতিবারেই কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলো না। তবে বিক্ষোভকারীরা কয়েকদিনের মধ্যে আবারও রাস্তায় নামার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।

এদিকে সুদানিজ কমিউনিস্ট পার্টি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত সুদানের নাগরিকদের আমরা রাজপথে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে সবাই মিলে এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।’ সুদানিজ কমিউনিস্ট পার্টির বহু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুদানে এই বিক্ষোভের শুরু মূলত রুটির দাম বৃদ্ধির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। প্রথমে রাজধানীর বাইরে শুরু হলেও ক্রমেই তা খার্তুমে ছড়িয়ে পড়ে। রুটির দাম ছিল ২ সেন্ট। সুদানের সরকার তার দাম বৃদ্ধি করে ৬ সেন্ট করেছে।