লিবিয়ার ত্রিপোলি বিমানবন্দরে বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার লিবিয়ার একমাত্র সক্রিয় বিমানবন্দর মিটিগা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিমান হামলার পর ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বিমান হামলার জন্য জাতিসংঘ জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনীকে দায়ী করেছে। হাফতারের বাহিনী রাজধানী দখলে অভিযান শুরু করেছে।
জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’র (এলএনএ) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য হামলা চালানো হয়নি।
গত সপ্তাহে এলএনএ জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে আক্রমণ শুরু করে। জাতিসংঘের মতে, ত্রিপোলিতে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন সরকারি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। এলএনএ জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১৯ যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
১৯৬৯ সালে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ক্ষমতা দখলের সময় সহায়তা করেছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা খলিফা হাফতার। পরে তার সঙ্গে মতবিরোধ হলে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে চলে যান তিনি। ২০১১ সালে গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলন জোরালো হলে ফিরে আসেন হাফতার। আর বনে যান এক বিদ্রোহী নেতা। গত ডিসেম্বরে লিবিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ আল সিরাজের সঙ্গে এক সম্মেলনে দেখা করেন হাফতার। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেন তিনি। গত সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করে বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।