ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে চারটি মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে দেশটির কয়েক হাজার মুসলমান প্রতিবাদ করছেন। দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে মুসলমানরা বিক্ষোভ করছেন। শুক্রবার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে মোত্তা শহরে মসজিদগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
দেশটির প্রখ্যাত মুসলিম শিক্ষাবিদ কামিল শেমসু বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, দেশটিতে অনেক রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন তারা এক ধর্মের বিরুদ্ধে আরেক ধর্মের মানুষকে লেলিয়ে দিতে চায়। অ্যাক্টিভিস্টদের নেতিবাচক ভূমিকা ও অনলাইনে প্রচারিত ভিডিওর সমালোচনা করেন তিনি।
আমহারা অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ কমান্ডার জেমাল মেকোনেন বলেছেন, কয়েকদিন পূর্বে ওর্থোডক্স গির্জায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় মসজিদে হামলা হয়ে থাকতে পারে।
মুসলমানরা স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়া এবং এধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামর্থহীনতার সমালোচনা করছেন।
আদ্দিস আবাবাসহ ইথিওপিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমরা।মসজিদে অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়েছে ওর্থোডক্স গির্জা ও ইথিওপিয়া ইসলামিক বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদ।
শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রেসিডেন্ট আবির শাসনে জাতিগত সহিংসতা কমে আসলেও সর্বশেষ এই ঘটনা ধর্মকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অক্টোবরে ওরোমিয়া অঞ্চলের টানা সহিংসতায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। হামলা হয়েছে মসজিদ ও গির্জায়।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ম ঘিরে যেসব সহিংসতা ছড়ায় দেশটিতে সেগুলোর নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ, জাতিগত ও অন্যান্য কারণ থাকে।
ইথিওপিয়ার ১১০ মিলিয়ন জনসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম। দেশটির ৪০ শতাংশ মানুষ ওর্থোডক্স খ্রিস্টান। কিন্তু আমহারা অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই কম। এলাকাটি ওর্থোড্রক্স খ্রিস্টান অধ্যুষিত দ্বিতীয় জনবহুল এলাকা। এখানকার ৮০ শতাংশের বেশি খ্রিস্টান।