সুদানের গৃহযুদ্ধে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ

সুদানের গৃহযুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তীর্ণ কোরদোফান অঞ্চলে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে তাৎক্ষণিক মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সহিংসতা ভয়াবহ এবং এতে জড়িত সবাই ভবিষ্যতে চিরস্থায়ী নিন্দার মুখে পড়বে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, সুদানে লড়াই বন্ধ হওয়া জরুরি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

রুবিও আরও বলেন, নতুন বছরটি উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার একটি বড় সুযোগ, যাতে সংঘাতে আটকে পড়া লক্ষাধিক মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যায়।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ডিসেম্বরের শুরু থেকে কোরদোফানে সহিংসতায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

রুবিও আরও বলেন, ওখানে যা ঘটছে তা ভয়াবহ, এটি নৃশংস। তিনি আরও বলেন, ‘একদিন সেখানে আসলে কী ঘটেছে তার পূর্ণ গল্প জানা যাবে, আর তখন এতে জড়িত সবাই-ই খারাপ অবস্থানে পড়বে।’

নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের পর ওয়াশিংটন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত মাসাদ বোলুস সম্প্রতি মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর দেশে ফিরেছেন।

রুবিও জানান, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, সরকারপন্থি সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাইরের দেশগুলো থেকে আসা অস্ত্র সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই যুদ্ধ এখন তৃতীয় ভয়াবহ বছরে প্রবেশ করেছে।’

রুবিও বলেন, ‘এই সব অস্ত্রই বিদেশ থেকে আসে। কোথাও না কোথা থেকে এগুলো আসতে হয় এবং কোনও না কোনও পথ দিয়েই প্রবেশ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাইরের শক্তিগুলোরই সেই প্রভাব রয়েছে, যার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব।’

সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঘিরে থাকা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আরএসএফকে সরাসরি বস্তুগত সহায়তা দিচ্ছে। তবে আবুধাবি বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।