প্রথাগত নিয়ম ভেঙে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন সুদানের নারীরা

দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রথা ভেঙ্গে সুদানের নারীরা এখন পুরুষদের কাজ করে হলেও উপার্জন করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদই তাদের এমন হাড়ভাঙা খাটুনির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।

সুদানের এক গৃহহীন মা, রাশা। তিনি বিকল্প খুঁজে না পেয়ে কাঠ কাটার কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “কাঠমিস্ত্রীর কাজ করা কঠিন, কিন্ত কুঠার এখন অনেকটা হাতের অংশ হয়ে গেছে আমার কাছে। এই কাঠমিস্ত্রীর কাজ করার কোনও বিকল্পও আমার জানা নেই।”

এই পরিস্থিতি শুধু তার একার জন্য না, বরং হাজারো সুদানের নারীদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা, কারণ তারাই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দিনের পর দিন রোদে পুড়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তাদের আয় অতি সামান্য, কখনো কখনো তা দিয়ে কেবল একটা বিস্কিটের প্যাকেটই কেনা যায়।  

রাশা বলেন, “আমাদের পরিধেয় কাপড়গুলো অনেকদিনের ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে গেছে, কিন্ত নতুন পোশাক কখনো আমরা কিনতে পারবো, সে আশাও ছেড়ে দিয়েছি। এখন অন্তত কিছু সাবান পেলেও পোশাকগুলো ধুয়ে পরা যেতো।”

এদিকে সুদানের সেনাবাহিনী ও র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের সংঘাত শুরুর পর থেকেই সুদানের স্কুলগামী শিশুদের অর্ধেকই স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।  সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইনগার অ্যাশিং এই ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, “শিক্ষা কোন বিলাসীতা নয়, বরং এটিও একটি মৌলিক চাহিদা।”

স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য সরবরাহও ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকরা মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, আর অনেক স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আহ্বায়নও বাস্তবে রূপ নেয়নি, যার ফলে লাখ লাখ সুদা্নের নাগরিক এখন অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন।

সুদানের সেনাবাহিনী ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের সংঘাত সুদানের ১ কোটি ৩৬ লাখ মানুষকে গৃহহীন করেছে এবং ৩ কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় ফেলেছে। বিশেষত দারফুর ও কর্ডোফান অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতি, রোগব্যাধি ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।