নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রিভার্স স্টেটে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম চুরি করার সময় বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
ওক্রিকা স্থানীয় সরকার এলাকার ওকারি জেটিতে মধ্যরাতের দিকে এই ঘটনা ঘটে। একটি জাহাজ থেকে সেখানে রফতানির জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য তোলা হচ্ছিল।
বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, ওক্রিকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২০০ জনেরও বেশি তরুণ কাঠের নৌকায় করে সেখানে পৌঁছান। এরপর তারা নৌকার সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের অবৈধ ট্যাপ পয়েন্ট থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরি করার চেষ্টা করেন।
তবে নৌকায় পেট্রোলিয়াম লোড করার সময় ঘনীভূত বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় আক্রান্ত হন ওই তরুণরা। এতে বেশ কয়েকজন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন নদীতে পড়ে ডুবে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে বলেছেন, ঘটনার ভয়াবহতা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নাইজার ডেল্টাভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকারসংগঠন ‘ইউথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার’ (ওয়াইইএসি-নাইজেরিয়া) একাধিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস দুমনামেনে ফাইনফেস জানান, ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট রিফাইনারি করিডোর হয়ে রফতানিমুখী জাহাজে পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনকারী পাইপলাইনের ট্যাপ পয়েন্টে ভুক্তভোগীরা একটি পাইপ যুক্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফাইনফেস আরও জানান, উচ্চ চাপে পাইপলাইন দিয়ে পেট্রোলিয়াম পাম্প করা হচ্ছিল। একই সময়ে তরুণরা অপেক্ষায় থাকা নৌকায় তেল লোড করতে গেলে তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের মুখোমুখি হন। ঘটনার পর নদীতে লাশ ভেসে থাকতে দেখা গেছে এবং অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা তেলসমৃদ্ধ নাইজেরিয়ার নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে অবৈধ তেল সংগ্রহ ও পেট্রোলিয়াম চুরির সঙ্গে যুক্ত চলমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। রিভার্স স্টেট ও আশপাশের এলাকায় অপরিশোধিত তেল চুরি, অবৈধ পরিশোধন এবং অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে নাইজেরীয় সামরিক বাহিনী রিভার্স, ডেল্টা এবং আকওয়া ইবোম স্টেটে অভিযান চালিয়ে ১০টি অবৈধ রিফাইনিং সাইট ধ্বংস এবং ৯ জন সন্দেহভাজন তেল চোরকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছিল। ওই অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারেরও বেশি চোরাই অপরিশোধিত তেল এবং ২৬ হাজার লিটারের বেশি অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল উদ্ধারের কথা বলেছিল তারা।
এছাড়া সম্প্রতি গত ২৮ আগস্টের এক অভিযানে রিভার্স স্টেটে দুটি অবৈধ রিফাইনিং সাইট ধ্বংস এবং ৩৪ হাজার লিটার সন্দেহভাজন অবৈধ পরিশোধিত অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নাইজেরীয় নৌবাহিনী।