ইথিওপিয়ার উত্তরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনী। নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল বেরহানু জুলা এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে প্রথমবারের মতো মন্তব্য করে জুলা বলেন, তিগ্রাই ফ্রন্টের কথিত উসকানির জবাবে সেনাবাহিনী প্রজ্ঞা ও সংযমের সঙ্গে কাজ করছে।
ইথিওপিয়াকে দুর্বল করতে ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও সহায়তা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিগ্রাইসহ সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভালকে তিনি দীর্ঘদিনের শত্রুতাপূর্ণ জোটের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট গঠনের পর তিগ্রাই থেকে প্রতিবেশী আফার ও আমহারা অঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। আফারে আবালা শহরের আশপাশে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ঠেকাতে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে তিগ্রাই সীমান্তবর্তী আমহারা অঞ্চলের নর্থ ওয়োলোতে বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে ২৭২ তিগ্রাই যোদ্ধা নিহত ও ২৬০ জন আহত হয়েছেন। তবে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) তিগ্রাই আর্মি বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পদাতিক, সাঁজোয়া ইউনিট ও ড্রোন ব্যবহার করে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করেছে। টিপিএলএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদিসালাম বালেমা আল জাজিরাকে বলেছেন, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
সামা, সোকোটা ও রায়া আলামাতার আশপাশেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বাহিনী আলামাতা শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
তবে সেনাবাহিনীর কমান্ড জানিয়েছে, বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে তারা কৌশলগত শান্ত নীতি অনুসরণ করতে চায়। তাদের দাবি, তিগ্রাই ফ্রন্টের জনসমর্থন কমছে এবং নেতৃত্বেও বিভাজন রয়েছে।
শুক্রবার উত্তর ইথিওপিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর এক দিন আগে জাতিসংঘ সেখানে বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন ব্যবহারের খবর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল।
নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ২০২২ সালের প্রিটোরিয়া চুক্তি মারাত্মক চাপে পড়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে তিগ্রাইয়ে দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার ওপর আগের গৃহযুদ্ধের নৃশংসতার কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জানায়, সংশ্লিষ্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা শেষ হয়েছে।
প্রিটোরিয়া চুক্তির জন্য বর্তমান পরিস্থিতিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ইথিওপিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে পড়লে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহিরের পক্ষগুলোর হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন এবং প্রতিবেশী সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আদ্দিস আবাবার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আলেমায়েহু ওয়েলদেমারিয়াম অবশ্য প্রিটোরিয়া চুক্তি ভেঙে পড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে বড় অংশে দায়ী করেছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ২০২২ সালের চুক্তির যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত কেন্দ্রীয় সরকারই ‘প্রধানত নস্যাৎ’ করেছে। তিগ্রাইয়ে জ্বালানি, সেবা ও নগদ অর্থের ওপর বিধিনিষেধ এবং চুক্তিতে প্রতিশ্রুত অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন না করার বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।