করোনা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিতর্কে ট্রাম্প

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।‌ করোনায় আক্রান্তদের ঘরে বা হাসপাতালে থাকতে বলা হলেও প্রেসিডেন্ট হয়েও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। তার এই আচরণে শঙ্কিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, চলছে সমালোচনাও। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

PRC_167475269

শুক্রবার করোনা আক্রান্ত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। মেলানিয়ার মৃদু উপসর্গ থাকলেও হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অক্সিজেন দিতে হয়েছিল। এরপরই তাকে মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।  কিন্তু রবিবার আচমকাই বেরিয়ে পড়েন ট্রাম্প। নিজের গাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন। 

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখে মাস্ক পরে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। গাড়িতে উঠে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। যদিও পরে আবার হাসপাতালেই ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু তাতেও সমালোচনা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ট্রাম্প। একজন চিকিৎসাধীন ব্যক্তিকে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো তা নিয়ে ট্রাম্পের চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের উপসর্গ ধরা পড়ার পর এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারও কারও এরমধ্যে স্বাস্থ্যের অবনতিও হতে পারে। তাই এই সময়টা পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প ভর্তি হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই বাইরে বের হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনাভাইরাসে বাতাসেও ছড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকদের দাবি, এভাবে বাইরে বেরিয়ে ট্রাম্প তার আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করেছেন। এতে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনও ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন। তাছাড়া গাড়িতে থাকা চালক কিংবা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও আক্রান্ত হতে পারেন।

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্পের মুখে মাস্ক থাকলেও গাড়ির জানলার কাচ নামানো ছিল। যা দেখে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। কেউ কেউ আবার এটাকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশলও মনে করছেন।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার মেডিসিন বিভাগের প্রধান জেমস ফিলিপ বলেন, “ওই গাড়িতে থাকা প্রত্যেককেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক নাটকের জন্য ওই মানুষগুলোর জীবন বিপন্ন হলো। ওরাও এবার সংক্রমিত হতে পারেন। মারাও যেতে পারেন।’’

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান চিকিৎসক রবার্ট ওয়াচারের মতে, ট্রাম্পের যে ধরনের উপসর্গ ধরা পড়েছে, অন্য কোনও রোগীর এমন উপসর্গ ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মধ্যে বাইরে যাওয়ার অনুমতি কোনোভাবেই দিতেন না চিকিৎসকরা। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার কাছে এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক উইলিয়াম স্যাফনার বলেন, ট্রাম্পকে সোমবার হোয়াইট হাউজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়। এই ঘটনার পিছনে চিকিৎসকরা দায়ী নন, প্রেসিডেন্ট এবং তার রাজনৈতিক সঙ্গীদের চাপেই হাসপাতাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পরেও একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কীভাবে এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কাজ করতে পারলেন ট্রাম্প। তাতে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। ওই দিনই টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে দেখা গেছে, ‘কোভিডের চিকিৎসা চলাকালীন অনেক কিছুই শিখলাম, জানলাম। এটিই আসল বিদ্যালয়। বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করেছি।’