‘গাজা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তুরস্কের অঙ্গীকার পশ্চিমের প্রতি’

তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যদিও ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিমত রয়ে গেছে। তুরস্কের আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ ফ্লেক এ মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, ন্যাটো সম্প্রসারণে তুরস্কের সমর্থন এবং মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি দেশটির পশ্চিমের প্রতি ঝোঁক প্রমাণ করছে। বুধবার (১২ জুন) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।

ফ্লেক বলেন, আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব কখনোই এত শক্তিশালী ছিল না। তুরস্কের পশ্চিমের প্রতি অঙ্গীকার এখন আরও দৃঢ়। 

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর তুরস্কের পশ্চিমা সহযোগিতা আরও দৃঢ় হয়েছে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। এছাড়া কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের চলাচল ঠেকিয়েছে।

ন্যাটোতে সুইডেনের যোগদানে অনুমোদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি পশ্চিমাদের সঙ্গে তুরস্কের কৌশলগত সম্পর্ককে জোরালো করেছে।

ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষ নিয়ে তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য বেড়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ বজায় রেখেছেন তিনি।

মার্কিন দূত ফ্লেক বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে অবশ্যই মতবিরোধ থাকবে। কিন্তু হামাসের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমাদের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই পার্থক্য তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করেনি।

ফ্লেক উল্লেখ করেছেন, মার্কিন কংগ্রেসে তুরস্কের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেন-এরদোয়ান সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, তুরস্কের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পশ্চিমের সঙ্গে গ্রোথিত বলে উল্লেখ করেছেন ফ্লেক। তার আশা তুরস্ক ব্রিকসে যোগ দেবে না। কারণ পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধকালীন পর্যায়ে চলে গেছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমি মনে করি, তুরস্ক বুঝতে পারছে যে, রাশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে এবং সেখানে কোনও ভবিষ্যৎ নেই।