যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভারতকে বলেছেন, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মী হত্যার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে তদন্তে দ্রুত ফলাফল ও আরও বেশি জবাবদিহিতা চান তারা। গত সপ্তাহে একটি মার্কিন অভিযোগপত্র প্রকাশিত হলে জানা যায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের একটি তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করে দেশটির নিজস্ব তদন্তের বিষয়ে আলোচনা করে। মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে যে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র’)-এর সাবেক কর্মকর্তা বিকাশ যাদব দ্বৈত মার্কিন-কানাডিয়ান নাগরিক এবং শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি যে, যথাযথ জবাবদিহিতা না আসা পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারব না। আমরা ভারতকে তদন্ত প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার ওপর জোর দিয়েছি।
ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভারতকে যে বার্তা দিয়েছেন, সেটি আগে প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু করে যাদব ভারতে এবং বিদেশে অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে পান্নুনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেন।
এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে। বাইডেন প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উচ্চাভিলাষ মোকাবিলায় একটি সম্ভাব্য কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার। তবে আমাদের এই ধরনের কঠিন বিষয়গুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য বিশ্বাস ও সক্ষমতা প্রয়োজন।
ভারত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসী ও দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা খালিস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি করছে। যা ভারতের একটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত হবে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে শিখ বিদ্রোহে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
পান্নুন অভিযোগ করেন যে, যাদব ছিলেন মাঝারি স্তরের একজন সেনা। যিনি উচ্চপদস্থ ভারতীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারত ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগগুলো তদন্ত করবে। অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে আরও একটি কূটনৈতিক বিরোধ চলমান রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তার দেশের গোয়েন্দা সংস্থা একটি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। ওই অভিযোগ হলো, কানাডিয়ান শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে।
ভারত উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।