যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটিভ অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে (৩১) বুধবার গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি (ইউভিইউ) ক্যাম্পাসে। সেখানে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কার্ক এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই তিনি গলায় হাত দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কী ঘটেছিল
কার্কের আমেরিকান কামব্যাক ট্যুর-এর প্রথম অনুষ্ঠান ছিল ইউভিইউতে। দুপুর ১২টার কিছু পর তিনি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এক শিক্ষার্থী গণহত্যা ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন, খুব বেশি। এর কয়েক সেকেন্ড পর গুলিতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, গুলি ছোড়া হয় লুসি সেন্টারের ছাদ বা জানালা থেকে, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০–২০০ গজ দূরে। এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে ছয়জন পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং কার্কের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও পাশে ছিলেন। একটি গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
চার্লি কার্ক কে ছিলেন
মাত্র ১৮ বছর বয়সে কার্ক গড়ে তোলেন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ নামের কনজারভেটিভ যুব আন্দোলন। দ্রুতই এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ডানপন্থি ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়। কার্ককে ট্রাম্প প্রায়ই অভিহিত করতেন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের যুবমুখ হিসেবে।
৫৫ লাখ অনুসারী নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার রেডিও ও পডকাস্ট অনুষ্ঠান দ্য চার্লি কার্ক শো মাসে প্রায় পাঁচ লাখ বার শোনা হতো। ফক্স নিউজে নিয়মিত উপস্থিতির পাশাপাশি তিনি বেস্টসেলার বই ‘দ্য মাগা ডকট্রিন’ প্রকাশ করেছিলেন।
কার্ক প্রায়ই জাতি, লিঙ্গ ও অভিবাসন ইস্যুতে মতপ্রকাশ করতেন। এর ফলে তার একদিকে তৈরি হয়েছিল নিবেদিত সমর্থকগোষ্ঠী, অন্যদিকে ছিল তীব্র বিরোধিতা।
সন্দেহভাজন কে
ইউটাহ গভর্নর স্পেন্সার কক্স বলেন, বুধবার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হলেও পরে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী কালো পোশাকে ছিল এবং একটিমাত্র গুলি চালিয়েছিল। এখনও কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।
গভর্নর কক্স এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের অঙ্গরাজ্যের জন্য অন্ধকার দিন এবং জাতির জন্য এক করুণ দিন।
প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে আমেরিকার জন্য অন্ধকারতম মুহূর্তগুলোর একটি বলেছেন। তিনি সব মার্কিন পতাকা রবিবার পর্যন্ত অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, চার্লি লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। ঘৃণার রাজনীতি থেকে জন্ম নেওয়া এই হত্যাকাণ্ড আমাদের মেনে নেওয়া যায় না।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতারা সমানভাবে এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এ ধরনের সহিংসতার কোনও স্থান নেই। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেন, হত্যাকারীর দ্রুত মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্ককে ইসরায়েলের সিংহহৃদয় বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান
ইউভিইউ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, আমরা হতভম্ব ও মর্মাহত। চার্লি কার্ক আমাদের অতিথি ছিলেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
সূত্র: আল জাজিরা