দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দেশে পাড়ি জমালো মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
বুধবার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা উচ্চতার বিশাল রকেটটি যখন মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, তখন সেটি প্রত্যক্ষ করতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। নাসার এই চন্দ্রাভিযান মূলত চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনার একটি বড় ধাপ।
দশ দিনের এই মিশনে অংশ নিয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। উৎক্ষেপণের মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই দলনেতা ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে আপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা একটি সুন্দর চাঁদ উঠতে দেখছি, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।
ঐতিহাসিক এই যাত্রার আগের মুহূর্তগুলো ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। রকেটে হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা ছিল প্রকৌশলীদের মনে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে একটি মহড়া চলাকালীন হাইড্রোজেন লিকেজের কারণে মিশনটি দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়েছিল।
তবে এবার বড় কোনও লিকেজ ধরা পড়েনি। প্রায় ৭ লাখ গ্যালন জ্বালানি সফলভাবে রকেটে লোড করা হয়। যদিও মাঝপথে রকেটের ফ্লাইট-টার্মিনেশন সিস্টেম এবং ওরিয়ন ক্যাপসুলের ব্যাটারিতে কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তবে নাসা দ্রুতই সেগুলো সমাধান করে ফেলায় উৎক্ষেপণে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি।
আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করবেন। সেখানে তারা মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, প্রপালশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করবে।
চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার সময় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে রেকর্ড পরিমাণ দূরত্ব পাড়ি দেবেন। পুরো যাত্রায় মহাকাশযানের শক্তি এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। সফর শেষে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০ হাজার ২৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।
নাসার বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো’ মিশনের সময় বর্তমান বিশ্বের অর্ধেক মানুষেরই জন্ম হয়নি। ফলে এই নতুন মিশনকে বর্তমান প্রজন্মের চন্দ্রাভিযান হিসেবে দেখছে নাসা।
এ নিয়ে নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্স বলেন, এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের অ্যাপোলোর কথা মনে নেই। এমন প্রজন্ম আছে যারা অ্যাপোলোর সময় জন্মই নেয়নি। এটিই তাদের কাছে অ্যাপোলো।
লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা আর্টেমিস টিমের হৃদয়, মার্কিন জনগণের অদম্য সাহস এবং সারা বিশ্বের নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা