স্ত্রী বিচ্ছেদ চাইতেই বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, এক্সক্যাভেটর নিয়ে তাণ্ডব

স্ত্রীর মুখে বিচ্ছেদের কথা শুনে রাগে উন্মত্ত হয়ে সপরিবারে নিজের বাড়িটিই এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক মার্কিন ব্যক্তি। বাড়িটি যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান ভেতরেই আটকা ছিলেন। এই ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়েরসজা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ইউএসএ টুডের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

ভয়াবহ এই কাণ্ড ঘটানোর অপরাধে এরিকের বিরুদ্ধে অন্য মানুষের জীবন বিপন্ন করা, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং বিপর্যয় সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মে এরিকের স্ত্রী তাঁকে জানান যে তিনি আর এই বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান না। এই কথা শোনার পরপরই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে এরিক চিৎকার করে বলেন, যদি সব শেষই হয়ে যায়, তবে আমি বাড়িটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।

পুলিশ জানায়, এই কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এরিক একটি এক্সক্যাভেটরে চড়ে বসেন এবং বাড়িটি ভাঙা শুরু করেন। সে সময় তার স্ত্রী এবং দুই আতঙ্কিত মেয়ে ঘরের ভেতরেই ছিলেন। ভাগ্যক্রমে নারী ও শিশুরা শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে, এক্সকাভেটরের আঘাতে বাড়িটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাফেলো টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এরিক যখন এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙছিলেন, তখন তার স্ত্রী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন। কল রিসিভ করা অপারেটররা জানিয়েছেন, ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন নারীদের আর্তচিৎকার এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বাড়ি ভাঙার বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

তদন্তকারীরা জানান, কিছু সময় তাণ্ডব চালানোর পর এরিক হঠাৎ বাড়ি ভাঙা বন্ধ করেন। এরপর তিনি দৌড়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে একটি ভ্রমণের ব্যাগ হাতে নিয়ে অন্য একটি শহরের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যান। তবে ঘটনার দিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এরিক পিয়েরসজা বর্তমানে ১০,০০০ ডলার জামিন অযোগ্য শর্তে বাটলার কাউন্টি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আদালতের অনলাইন রেকর্ড অনুযায়ী, এখনও তার পক্ষে কোনও আইনজীবী বা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য পাওয়া যায়নি। আগামী ৯ জুন আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি