মাথার পাকা চুল লুকিয়ে ফেলার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চললো। এখন আর পাকা চুল নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা নয়, বরং শখ করে নিজের ধূসর চুল প্রকাশ করার এক নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এমনকি তরুণীদের মধ্যেও এখন এই ‘গ্রে লুক’ বা ধূসর চুলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্ল্যাটফর্ম ইয়েলপ-এর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই খবর জানিয়েছে।
ইয়েলপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে হাইলাইটস ব্যবহারের মাধ্যমে পাকা চুলকে মানিয়ে নেওয়ার একটি রঙের কৌশল বা গ্রে ব্লেন্ডিং সেবার জন্য সেলুন খোঁজার হার রেকর্ড ৯০৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ধূসর চুলের বিশেষজ্ঞদের খোঁজ করার হার বেড়েছে ২৭৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনের এক সেলুন মালিক ও হেয়ার স্টাইলিস্ট সিনথিয়া ভালদেস জানান, পুরো চুল রঙ করার চেয়ে ব্লেন্ডিংয়ে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ও ঝামেলা অনেক কম। সাধারণ রঙের ক্ষেত্রে প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর সেলুনে যেতে হয়, সেখানে ব্লেন্ডিং করলে সেলুনে যাওয়ার সময়কে আরও এক-দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া যায়।
এই পদ্ধতিটি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, চুল কাটা বা অন্যান্য সেবার জায়গা রাখতে ভালদেসকে এখন এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট সীমিত করতে হচ্ছে।
ভালদেস বলেন, মানুষ এখন তাদের ধূসর চুলগুলো দেখানোর জন্য ব্যাকুল, তারা সবসময় এটি ঢেকে না রাখার জন্য হীনম্মন্যতায় ভোগে না। এটি একটি বড় পরিবর্তন। আগে একটা পাকা চুল দেখলেই সবাই বলত, চলো দ্রুত ঢেকে ফেলি যাতে কেউ দেখতে না পায়।
তিনি জানান, তার অনেক গ্রাহকই মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের, যাদের মাথায় মাত্র অল্প কিছু পাকা চুল রয়েছে। ভালদেস তাদের মুখের চারপাশের ধূসর চুলগুলোকে আরও উজ্জ্বল করতে হাইলাইটস ব্যবহার করেন।
ইয়েলপের ট্রেন্ড বিশেষজ্ঞ তারা লুইসের মতে, এই ‘গ্রে ব্লেন্ডিং’ মূলত ‘হাই মেইনটেইন্যান্স টু বি লো মেইনটেইন্যান্স’ (যেমন লেজার ফেসিয়াল) ধারণার অংশ। এখানে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি সরলতার জন্য শুরুতে কিছুটা বেশি খরচ করে। মানুষ এখন শুধু তাদের রূপচর্চার রুটিনকে সহজ করতে চাইছে না, বরং নিজেদের প্রাকৃতিক রূপকেও গ্রহণ করছে।
তবে ভালদেস মনে করিয়ে দেন, ব্লেন্ডিং সবার জন্য নাও হতে পারে; এখনও অনেক গ্রাহক আগের মতো নিয়মিত চুলের গোড়া বা রুট টাচ-আপ করতেই বেশি পছন্দ করেন।