‘আপা, ভেবেছিলাম আমরা বুঝি মারাই যাবো’

বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটা ভয়েস মেসেজ পাঠালো আমার ছোট বোন ভেরোনিকা। কাঁপানি কণ্ঠে বললো, ‘ঘরবাড়ি কেমন ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠলো! এখনও কাঁপছে।’ ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ কথাগুলো বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এক নারী। ব্রিটিশি সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তখন ঠিক কী ঘটছিল, তা আমি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারিনি। এরপরের টানা দুটি ঘণ্টা আমি ভেরোনিকাকে অনবরত ফোন দিয়ে গেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। ফোন করেছিলাম আমাদের মাকেও, যিনি ওই সময় ভেরোনিকার সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু মায়ের ফোনও ওপাশ থেকে বাজেনি।

কিছুক্ষণ পর কারাকাসের সাংবাদিকদের একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে আমি সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর জানতে পারি। ঠিক তখনই আমার এক বন্ধু লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ক্লিপ পাঠায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো, আস্ত একটা ভবন যেন বিস্কুটের মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে পড়ছে।

ভিডিওটি দেখামাত্রই আমার বুকটা ধক করে ওঠে, জায়গাটা আমি চিনি। ভেরোনিকা আর মা যেখানে ছিলেন, ধসে পড়া ভবনটি তার থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে অবস্থিত। ততক্ষণে ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির একের পর এক আপডেট ও নোটিফিকেশনে আমার ফোনের বিপ বিপ শব্দ অবিরাম বেড়েই চলছিল। তীব্র উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তায় আমার সময় কাটছিল।

অবশেষে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়, যখন সে আবার ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পায়। ফোনে সে কেবল এটুকুই বলতে পেরেছিল, ‘আপা, ভেবেছিলাম আমরা বুঝি মারাই যাব।’ এরপরই ফোনটা কেটে যায়।

ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে বৃহস্পতিবার সে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে যাবে; শুধু এটি দেখতে যে, তার মাথা গোঁজার মতো ঘরটি এখনও টিকে আছে কি না।