ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের দুই ‘অস্ত্র’: ভ্যান্স ও রুবিও

ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্তে পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক কাঁধে ভরসা হিসেবে আছেন যুদ্ধবিরোধী কোমলপন্থি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, আর অন্য কাধে আছেন যুদ্ধংদেহী কঠোরপন্থি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই আলোচনার সাফল্য এবং বিশ্ব তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে ট্রাম্প এই দুজনকে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ওপর।

ট্রাম্পের এক শীর্ষ উপদেষ্টা বলেন, মার্কো ও জেডি আসলে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিত্ব ও নীতিরই দুটি দিক। রুবিও বেশি ইসরায়েলপন্থি আর জেডি কিছুটা ইসরায়েলের প্রতি সন্দেহপ্রবণ।

গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও ভ্যান্স ও রুবিওর ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। ভ্যান্স মনে করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শেষ করতে ও হরমুজ প্রণালি সচল করতে ট্রাম্পের এই চুক্তিতে সই করা উচিত। অন্যদিকে রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এই চুক্তি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে রুবিও চুক্তিটি নস্যাৎ করতে চান না, বরং গত সোমবার আইনপ্রণেতাদের কাছে এর পক্ষে ব্রিফিংও করেছেন। এক উপদেষ্টা জানান, তারা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ নন, বরং ‘সুইস আর্মি নাইফ’-এর ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রের মতো, যা ট্রাম্প নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন।

এই আলোচনাটি ইসরায়েল, ইরান ও লেবানন ত্রিপক্ষীয় হওয়ায় বেশ জটিল। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ জুনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, সুইজারল্যান্ডে লেবানন ইস্যুতে ভ্যান্সের করা ২১ জুনের চুক্তি এবং শুক্রবার রুবিওর তত্ত্বাবধানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার শান্তি রূপরেখা। রুবিওর চুক্তি অনুযায়ী লেবাননে ইরানের হস্তক্ষেপ বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে ভ্যান্সের প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বিভ্রান্তির কারণে ইসরায়েলি ও লেবাননি মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত নীতি কোনটি তা জানতে চান। অবশ্য এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভ্যান্স ও ট্রাম্প দুজনেই রুবিওর চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন।

১৭ জুনের সমঝোতায় চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত থাকলেও, শুক্রবারের চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হিজবুল্লাহ রুবিওর চুক্তিকে বাতিল ঘোষণা করে ভ্যান্সের মধ্যস্থতার চুক্তি মেনে চলার দাবি জানিয়েছে। কুইনসি ইনস্টিটিউটের ভিপি ত্রিতা পার্সি এক্সে লিখেছেন, ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিটি সমঝোতার কার্যকারিতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং বৈরুতে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দ্বিমতের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ইরানের কাছে চুক্তি দুটি সাংঘর্ষিক মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তা নয়। গণমাধ্যম বা বিরোধীরা ভ্যান্স ও রুবিওর মধ্যে দ্বন্দ্বের যে খবর ছড়াচ্ছে, বাস্তবে তা নেই।

আমেরিকান কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এই ইরান আলোচনার ফলাফল ২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, ভ্যান্সের ব্যর্থতার অপেক্ষায় রুবিও হয়তো নিজেকে কিছুটা পেছনে রাখছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এই দাবিকে ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, পুরো প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের পাশে আছে, যাতে ইরান কোনোদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস