যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ৫ জন বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া এই রায়কে শিশু, পরিবার ও সংবিধানের বড় জয় হিসেবে দেখছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুততম সময়ে পুশব্যাক, নাগরিকত্ব বাতিলের তৎপরতা এবং অভিবাসন সুরক্ষা কমিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অন্যান্য সিদ্ধান্তের কারণে উদ্বেগ রয়েই গেছে।
অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কারা মার্কিন নাগরিকত্বের যোগ্য হবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা, যাদের পিতা-মাতার অন্তত একজন বৈধভাবে সেখানে বসবাস করছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ট্রাম্পের সেই অভিবাসন নীতির ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস লিখেছেন, রাজনীতি ও সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার ভিত্তি হলো নাগরিকত্ব।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এখন প্রকাশ্য সংঘাতের চেয়ে নীরবে নীতি পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছে। যেমন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার পরিকল্পনা করেছে বিচার বিভাগ।
এ ছাড়া ওবামা আমলের ডিএসিএ প্রকল্পের আওতায় থাকা ড্রিমারদের স্ট্যাটাস নবায়নের প্রক্রিয়া ধীরগতির করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েক দিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট এক ৬-৩ রায়ে জানিয়েছে, সিরিয়া ও হাইতির নাগরিকদের জন্য মানবিক সুরক্ষা বন্ধ করা এবং সীমান্ত পার হওয়ার আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নাকচ করার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। এই জটিল পরিস্থিতিতে লাখ লাখ অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
দ্য ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এফ্রেন অলিভারেস বলেন, আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
অন্যদিকে ইউসি আরভাইন ল স্কুলের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকুয়ালিটি’র নির্বাহী পরিচালক রবার্ট চ্যাং জানান, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অক্ষুণ্ন থাকলেও ফেডারেল সরকার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার নিয়ম আরও কঠিন করার মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস