পড়ার অভ্যাস কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বইয়ের দোকানের ব্যবসা

মার্কিনীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস আগের চেয়ে কমে গেছে। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, এর মধ্যেও দেশটির বইয়ের দোকানগুলো ব্যবসায়িকভাবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন ও নামী বুকশপ ‘বর্ডারস’-এর পতনের পর একসময় যে বইয়ের দোকানগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে ছিল, সেই ‘বার্নস অ্যান্ড নোবেল’ (বিঅ্যান্ডএন) এবং স্থানীয় স্বাধীন বই বিক্রেতারা এখন নতুন দোকান খুলে বিক্রির নতুন রেকর্ড গড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে মানুষের মনোযোগের সময় কমে যাওয়া সত্ত্বেও বইয়ের দোকানগুলো এখন আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তির এক শান্ত আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। আমেরিকান বুকসেলার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বইয়ের দোকানের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০টি, ২০২৫ সালে তা ৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টিতে। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন তাদের বিক্রি বেড়েছে।

অবশ্য জুন মাসে সিবিএস নিউজের এক জরিপ বলছে, ৩৬ শতাংশ আমেরিকান এক দশক আগের তুলনায় এখন কম বই পড়েন। লেখক টিম ফেরিস জানিয়েছেন, তার তথ্যভিত্তিক ‘হাউ টু’ বইগুলোর বিক্রি কমে গেছে, কারণ মানুষ এখন বই না পড়ে চ্যাটবটের কাছ থেকে সরাসরি উত্তর পেয়ে যাচ্ছে। তবে বার্নস অ্যান্ড নোবেল-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) জেমস ডন্ট বই পড়ার হার কমে যাওয়ার এই দাবিকে অলীক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিছু ঘরানার বই যেমন রাজনৈতিক বইয়ের বিক্রি হয়তো কমেছে, তবে রোমান্স ও ফ্যান্টাসি বা নন-ফিকশন বই এখন দারুণ চলছে। এমনকি বিশেষ সংস্করণের ম্যাগাজিনও দেদার বিক্রি হচ্ছে।

২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডন্ট প্রতিটি এলাকার মানুষের রুচি অনুযায়ী বই রাখা এবং খেলনা ও গেমসের মতো ভিন্ন পণ্য যুক্ত করে দোকানগুলোর ভোল বদলে দিয়েছেন।

আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক পেগি স্টোভার মনে করেন, জেন-জি বা এই প্রজন্মের তরুণদের অ্যানালগ অভিজ্ঞতার প্রতি আকর্ষণ এবং নস্টালজিয়াই বইয়ের দোকানগুলোর এই জনপ্রিয়তার কারণ।

ডেট্রয়েটের নেক্সট চ্যাপ্টার বুকস-এর সহ-মালিক সারাহ উইলিয়ামস বলেন, আমরা একটি সুন্দর সামাজিক মেলবন্ধনের অভাব বোধ করছিলাম। সেই তাড়না থেকেই দোকানটি খোলা, যা অপর মানুষদেরও টানছে।