যুক্তরাষ্ট্রের ৭ রাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কি সাইবার হামলা চালিয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যে ৩০টিরও বেশি পানি সরবরাহ কেন্দ্র সমন্বিত সাইবার হামলার শিকার হওয়ার পর ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। এফবিআই জানিয়েছে, দেশটির অন্তত সাতটি রাজ্যে এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, যা পানি সরবরাহের কাজকে ব্যাহত করেছে। এই হামলার নেপথ্যে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর এলেও সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক দমন-পীড়নবিরোধী উপদেষ্টা মরগান রাইট জানান, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই ধরনের হামলার জন্য ইরানই প্রধান সন্দেহভাজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ভুয়া পরিচয়ে বিভেদ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে এফবিআই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজসহ মিনেসোটার কর্মকর্তাদের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। পাল্টা জবাব দিয়ে ওয়ালজ বলেছেন, হামলার পেছনের আসল অপরাধীদের কথা ট্রাম্প ভালো করেই জানেন।

ইরান বরাবরই এসব সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ২০১৬ সালেও মার্কিন ব্যাংকে হামলার অভিযোগের জবাবে প্রমাণ চেয়েছিল দেশটি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘হ্যান্ডালা’ নামের একটি গোষ্ঠী ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে এমন কার্যক্রম চালায়।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পানি শোধনাগারে হামলার দাবি করেছিল তারা। এর আগেও ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের তথ্য চুরি ও বিভিন্ন হাসপাতালে সাইবার হামলার পেছনে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর মূল লক্ষ্য পানীয় জল বিষাক্ত করা নয়, বরং সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করা। রাইট উল্লেখ করেছেন, একটি দেশকে স্থবির করে দিতে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৫২ হাজার খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে, যার বেশির ভাগ পুরনো প্রযুক্তিতে চালিত। এগুলো ইন্টারনেটের আওতামুক্ত করা এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ছাড়া বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়।

সূত্র: বিবিসি