শিল্প ও সৃজনশীলতার জগতে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সামান্যতম ইঙ্গিতও এখন ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কোনও কাজে এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের সুযোগ না দিয়েই হুট করে বাতিল করা হচ্ছে বড় বড় চুক্তি ও ক্যারিয়ার।
সম্প্রতি ৩০ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকা ইউটিউবার হ্যাংক গ্রিন তার একটি ভিডিওতে সাধারণ একটি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করায় দর্শকরা সন্দেহ করেন যে তার স্ক্রিপ্টটি হয়তো এআই দিয়ে লেখা। পরবর্তীতে তিনি জানান, বক্তব্যটি স্ক্রিপ্টে ছিল না, তবে গবেষণার কাজে তিনি এআই ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি এআই ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দেন।
একইভাবে লেখক জেরি ফালাদের সঙ্গে প্রকাশকদের প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি বইয়ের চুক্তি মাঝপথে বাতিল হয়ে যায় তিনি এআই ব্যবহার করেছেন, এমন গুঞ্জনের ভিত্তিতে। যদিও লেখক এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, অভিজ্ঞ এজেন্ট ও সম্পাদকদের হাত ঘুরে আসা লেখায় এআই ব্যবহারের বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ডেডলাইন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের বিতর্ক থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে সেই কাজের কপিরাইট বা স্বত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেই আর্থিক ঝুঁকির কথা ভেবে চুক্তি বাতিল করা হয়।
এমনকি বহু পুরনো অডিও প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চলচ্চিত্রের শিরোনামে ‘এআই’ শব্দটি লিখে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। হলিউডসহ বিনোদনজগতে এআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ স্পষ্ট। ‘ব্যাকরুমস’ ছবির পরিচালক কেন পারসন্স জানিয়েছেন, সুযোগ থাকলে তিনি জেনারেটিভ এআই চিরতরে মুছে দিতেন। অন্যদিকে অস্কারের নিয়মেও স্পষ্ট বলা হয়েছে যে এআই দিয়ে তৈরি কোনও কাজ অভিনয় বা চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কৃত হবে না। ফলে কোনও কাজে এআই ব্যবহার করা হোক বা না হোক, সামান্য সন্দেহের তীর উঠলেই কূল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস