কলম্বিয়ায় সোমবার আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ভূকম্পনের পর দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিসের পরিচালক জুলিও ফিয়ারো মোরালেস জানান, এটি গত এক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, পেরেইরা, ক্যালি এবং কিবদো শহরে ঘরবাড়ি ও ছোট ছোট ভবন ধসে পড়ছে। রাজধানী বোগোটা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মানিজালেস শহরের একটি নিও-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতার ২৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর-পশ্চিম চকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারে। এর কম্পন পাশ্ববর্তী ভেনিজুয়েলার কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে, দেশটি এখনও ২৪ জুনের জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করছে।
ভ্যাল ডেল কাউকার গভর্নর ডিলিয়ান ফ্রান্সিসকা টোরো জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং বেশ কিছু এলাকায় ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। পেরেইরা শহরে চারতলা একটি ভবন ধসে পড়ে এবং সান হোসে গির্জার সামনের অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় এক শহরের মেয়র কারাকোল রেডিওকে বলেছেন, এটি আমাদের সম্পূর্ণ ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
দুর্যোগ মোকাবিলায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলিয়ার্ডো দে লা এস্প্রিয়েলা একটি জরুরি কমিটি গঠন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সান হোসে দেল পালমারে সরকারের জরুরি উদ্ধার তৎপরতার তদারকি শুরু করেছেন। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে কলম্বিয়ান সেনাবাহিনী পাঁচ প্লাটুন উদ্ধারকারী সেনা পাঠিয়েছে এবং রাজধানী বোগোটা থেকেও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক নেতারা উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। কলম্বিয়ায় ছোট আকারের ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটনা হলেও ৬.০ মাত্রার বেশি কম্পন বিরল। এর আগে আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।