ঘূর্ণিঝড় বা হ্যারিকেন লালার বিধ্বংসী বাতাস ও ভারী বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে হাওয়াই। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজ্যটির বিগ আইল্যান্ড লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মোকে’। এর প্রভাবে দ্বীপটিতে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
আমেরিকার ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড় ‘মোকে’ হিলোর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৪২৫ মাইল (৬৮০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছিল। এটি ১২ মাইল (১৯ কিলোমিটার) বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছিল। বর্তমানে এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল (৮৫ কিলোমিটার)।
হ্যারিকেন লালার মতো এবারও মোকে সরাসরি আঘাত না হেনে শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোরের দিকে দক্ষিণ দিক দিয়ে অতিক্রম করবে। তবে এর মূল প্রভাব পড়বে বিগ আইল্যান্ডের ওপর। ঝড়টি আগামী মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দ্বীপগুলোর কাছাকাছি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন হনুলুলুর ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ কেসি ওসোয়ান্ট।
কেসি ওসোয়ান্ট বলেন, বাতাস ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বিগ আইল্যান্ডে নিশ্চিতভাবেই এর প্রভাব পড়বে। তবে লালার সময় আমরা যা দেখেছি, তার তুলনায় প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।
এর আগে ঘূর্ণিঝড় লালা গাছপালা উপড়ে ফেলা ছাড়াও ঘরবাড়ির ভিত্তি ধসিয়ে দিয়েছে এবং রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে কাদা ও পাথরে ঢেকে দিয়েছে। হ্যারিকেন লালার কারণে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে কোনও আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি, তবে জনগণকে ঝড়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভয়ানক স্রোত, মারাত্মক বন্যা এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে- বিশেষ করে খাড়া পাহাড়ি এলাকা ও যেসব অঞ্চলের মাটি আগে থেকেই পানিতে সম্পৃক্ত হয়ে আছে।
ঝড় মোকে আঘাত হানার আগেই হাওয়াইয়ের গভর্নর জোশ গ্রিন এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপণ্য মজুত করে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, লালার সময় বিগ আইল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। সেখানে মোট ৪৩ দশমিক ৫৪ ইঞ্চি বা ১ দশমিক ১ মিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগ আইল্যান্ডে এখনও ৮ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন।