শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে প্রস্তাবিত শিক্ষা বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সান্তিয়াগোতে পুলিশ ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর আয়োজনে হওয়া বিক্ষোভে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামেন। প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের প্রশাসন ২০২৭ সালের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাব দেওয়ার একদিন পর এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

কনজারভেটিভ নেতা কাস্তে ব্যয় সংকোচনের নীতি নিয়ে মার্চে ক্ষমতায় আসেন। বুধবার তিনি ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে এ কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তবে শিক্ষার্থী নেতাদের দাবি, পুরো শিক্ষা খাতের জন্য সরকারি অর্থায়ন এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা প্লাজা ইতালিয়ায় জড়ো হয়ে লা আলামেদা সড়ক ধরে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় লা মোনেদার দিকে এগিয়ে যান। প্রায় ৮০০ মিটার যাওয়ার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের পথ রোধ করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। জবাবে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও কাঠের লাঠি ছুড়েছেন।

বিক্ষোভ-পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জানান, এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাসের কাছেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী সরকারের সমর্থক শিক্ষার্থীদের পাল্টা সমাবেশে হামলা চালায়।

সরকারপন্থি কনজারভেটিভ শিক্ষার্থীরা সেখানে ‘আমরা অচল চিলি চাই না, আমরা সমৃদ্ধ চিলি চাই’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট কাস্তে তার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার দ্রুত নিন্দা জানান।

বিক্ষোভ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ বাজেট বিল কংগ্রেসে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলে তারা আরও তীব্র আন্দোলনে নামবে।