আবাসন সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব বাতিল, স্পেনে নতুন করে বিক্ষোভ

আবাসন সংকট মোকাবিলায় স্পেন সরকারের প্রস্তাবিত ডিক্রি পার্লামেন্টে বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে আবারও বিক্ষোভে নামার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মাদ্রিদে অবস্থান কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘তোমাদের মুনাফা, আমাদের দুর্দশা’ স্লোগান দেন। ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ডিক্রি তৈরি করেছিল প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার।

পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিতর্কে আবাসন সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ফুটে ওঠে। শুক্রবার স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি পাস না হলে নভেম্বরেই আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন সানচেজ। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনও মন্তব্য করেনি।

সরকারের প্রস্তাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ নিষিদ্ধ করা, বিদ্যমান ভাড়াচুক্তিতে ভাড়া বাড়ানো দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম চালুর কথা ছিল।

তবে বামপন্থি সরকারের মাঝে মাঝে মিত্র হিসেবে থাকা কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল জুনৎস বিরোধীদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করে। দলটির যুক্তি, এসব পদক্ষেপ আবাসনের সরবরাহ কমিয়ে সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভাড়াচুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়নের আরেকটি প্রস্তাবও বাতিল হয়।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া টেন্যান্টস ইউনিয়ন শনিবার আরও বড় সমাবেশের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র আলিসিয়া দেল রিও বলেন, অবস্থান কর্মসূচি চলবে এবং তা আরও এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া।

স্পেনে আবাসন ব্যয়ের চাপ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। দেশটির ইয়ুথ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে গড় মাসিক ভাড়া ১ হাজার ১৭৬ ইউরো, যা একজন তরুণের গড় বেতনের ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। ফলে অনেক তরুণ ৩০ বছর বয়স পার হওয়ার পরও বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন।

জুনৎসের পার্লামেন্টারি মুখপাত্র মিরিয়াম নোগেরাস বলেন, সরকারের প্রস্তাবগুলো যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, বাস্তবে তার বিপরীত ফল হতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিদিন আবাসন খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের দায়িত্ব অনিশ্চয়তা নয়, বরং নিশ্চিততা তৈরি করা।