সোমবার দেশটির সরকার নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে।
আরও পড়ুন: জাপানে আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কা, ঘরহারা আড়াই লাখ মানুষ
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য সুইজারল্যান্ড, স্পেন ও বেশ কয়েকটি লাতিন আমেরিকার দেশ থেকে একাধিক টিম কাজ করছে। বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে নিহত ও আহতদের স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। অনেক স্থানে উদ্ধারকারী ও স্বজনদের খোঁজ করা পরিবারের সদস্যরা হাতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
নিজের ইতালি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরা কোরেয়া কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইলাইমি লং উদ্ধারকাজে সহযোগিতাকারীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে ১২০টি মোবাইল টিম উদ্ধারকাজে নামবে।
রবিবার ৭.৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে অভিযানে অংশ নিয়েছেন ১০ হাজার সেনা ও সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য।
আরও পড়ুন: ইকুয়েডর এবং জাপানের ভূমিকম্প কি সম্পর্কিত?
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও বাসে করে সেনা সদস্যদের দেশটির উত্তরাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
আহত প্রায় ৬০০ মানুষকে স্থানীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অনেককেই অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে আঞ্চলিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামটিকে অস্থায়ী লাশ রাখার ঘর (মর্গ) হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৯০টি মৃতদেহ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই সোমবার রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। আতঙ্কিত স্থানীয়রা আরও শক্তিশালী আফটার শকের আশঙ্কা করছেন।
সোমবারজুড়ে দমকমলকর্মীরা ভেঙে পড়া ভবনগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। আটকে পড়াদের কান্নার শব্দ শুনতে তারা নীরবে অভিযান চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৪০০ শরণার্থীর মৃত্যুর আশঙ্কা
উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় ভূমিকম্পগুলোর একটি ঘটেছে এই ইকুয়েডরেই। ১৯০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূকম্পন হয় এখানে। ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমুদ্র উপকূলে সৃষ্ট এই সুনামিতে মারা যান পাঁচ শতাধিক মানুষ। আহত হন আরও দেড় হাজার। মধ্য আমেরিকা ও সানফ্রান্সিসকোতেও অনুভূত হয় এই ভূমিকম্প। যার প্রভাবে হাওয়াইয়ের নদীগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/