পেরুর ৮৪ কোটি ডলারের বন্দর প্রকল্পে যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত

দক্ষিণ পেরুর প্রায় ৮৪ কোটি ৪০ লাখ (৮৪৪ মিলিয়ন) ডলারের একটি নতুন বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সোমবার পেরুর সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রস্তাবিত এই বন্দরটির পানির গভীরতা ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোস্কো শিপিং পোর্টস পরিচালিত উত্তর পেরুর চ্যাংকে বন্দরের চেয়েও বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন এই বন্দর দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যে দূরপাল্লার বৃহৎ কনটেইনার জাহাজগুলো সরাসরি বিরতিহীনভাবে যাতায়াত করতে পারবে।

প্রকল্পটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে পেরুর সরকারি সংস্থা প্রোইনভার্সন-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর আঞ্চলিক গভর্নর রোহেল সানচেজ সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

নির্দিষ্ট কোনও কোম্পানির নাম উল্লেখ না করে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো দেশের বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন, যারা এটি নিয়ে খুবই আগ্রহী।

লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব রুখতে ওয়াশিংটন যখন সচেষ্ট, ঠিক তখনই পেরুতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া পেরুর খনিজ সম্পদের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাজারও চীন।

প্রোইনভার্সনের প্রেসিডেন্ট লুইস দেল কার্পিও জানান, এই বন্দরটি সাধারণ পণ্য এবং কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও আশপাশের অঞ্চল থেকে এশিয়ায় তামাসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান পরিবহনে এটি ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সরকার জানিয়েছিল, চীনা প্রতিষ্ঠান জিনঝাও ২০২৭ সালে ইকা অঞ্চলের মার্কোনা শহরে ৪০ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে আরেকটি বন্দরের নির্মাণকাজ শুরু করবে।

গভর্নর সানচেজ আরও জানান, তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডসের কোম্পানিগুলোও এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরা লজিস্টিক পার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স