পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, ৪৫ বছরের সাবরি লিয়াকোটাবাদ এলাকায় নিজের প্রাইভেট কারে যাচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত্য ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, দুই মোটরসাইকেল আরোহী থাটি-বোর পিস্তল ব্যবহার করে সাবরিকে পাঁচটি গুলি করে। একটি গুলি সাবরির মাথায় লেগেছে। এতেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা হাসান স্কয়ার দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মুশতাক মেহার জানান, দুই মোটরসাইকেল আরোহী সাবরির প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। সাবরি হত্যাকাণ্ডকে তিনি পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছি। সব শক্তি ব্যবহার করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে থার্টি-বোরের ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
২০১৪ সালে কাওয়ালি শিল্পী আমজাদ সাবরির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার দায়ে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট একটি নোটিশ জারি করে। সকালে কাওয়ালি গান গাওয়ার জন্য সাবরিসহ দুটি টেলিভিশনকেও এ নোটিশ পাঠানো হয়।
জিও নিউজের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়েরের পর আইনজীবী তারিক আসাদ আমজাদ সাবরি ও গানের লেখকের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনেন। তারিক আসাদ কাওয়ালিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
আমজাদ সাবরি ছিলেন পাকিস্তানের কাওয়ালি গানের প্রতিকৃতি মকবুল সাবরির ভাইপো। ২০১১ সালে মকবুল সাবরি মারা যান। মাকবুল সাবরি তার প্রয়াত ভাই গুলাম ফরিদ সাবরিকে পঞ্চাশের দশকের বিখ্যাত কাওয়ালি গানের দল গড়ে তোলেন। আমজাদ তাদের পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখেন। তিনি পাকিস্তানের কাওয়ালি শিল্পীদের অন্যতম ছিলেন।
প্রচলিত ঘরানার কাওয়ালি শিল্পী আমজাদ সাবরির গানে ধর্মের কথা রয়েছে। অনেকেই গানের এসব কথাকে আক্রমণাত্মক বলে মনে করে থাকেন। সাবরির গাওয়া বিখ্যাত কয়েকটি কাওয়ালির মধ্যে রয়েছে ‘ভার দো জোলি মেরি’, ‘তাজদার-ই-হারাম’, ‘মেরা কই নেহি হ্যা তেরি সিবা’ উল্লেখযোগ্য। ফারসিতেও অনেক কাওয়ালি গেয়েছেন সাবরি। সূত্র: ডন।
/এএ/