গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামুন লিয়াকত আলী (২৯) ও জামান দৌলত (৩৪) নামের দুই বাংলাদেশি জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা তা অস্বীকার করেছেন। গ্রেফতার হওয়া আরও দুই বাংলাদেশি সোহাগ ইব্রাহিম (২৭) ও ইসলাম শরিফুলের (২৭) বিরুদ্ধে এখনও কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। এই দুজনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাদের পৃথকভাবে বিচারের আওতায় আনা বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত দৌলতের দাবি, তিনি যে অর্থ প্রদান করেছিলেন, তা যে জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত হবে, তা তিনি জানতেন না। তবে ওই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, দৌলতসহ গ্রুপের বাকিরা কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ ডলার জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর এপ্রিলে সিঙ্গাপুরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৮ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ওই সময় স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক হওয়া ওই আট বাংলাদেশি দাবি করেছেন তারা ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) এর সদস্য। গত মার্চে সিঙ্গাপুরে তারা সংগঠনটি গড়ে তোলেন। সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর থাকা সশস্ত্র সংগঠন আইএস-এর হয়ে লড়াই ও যোগদানের পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বাংলাদেশিরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানোটা কঠিন হয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা মত পাল্টান। গড়ে তোলেন নতুন পরিকল্পনা। ওই আট বাংলাদেশি দেশে ফিরে সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার উৎখাত, একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং তা ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস ঘোষিত খেলাফতের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের একটি আদালত অভিযুক্ত চারজনের সাজা ঘোষণা করে। কারাদণ্ড প্রাপ্ত চার বাংলাদেশি হলেন, মিজানুর রহমান (৩১), রুবেল মিয়া (২৬), মো. জাবেদ কায়সার হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০) ও ইসমাইল হাওলাদার সোহেল (২৯)। এ চারজনই চলতি বছরের ৩১ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আদালতের রায়ে চক্রটির প্রধান মিজানুর রহমানকে ৫ বছরের (৬০ মাস) কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইসমাইল হাওলাদার সোহেলকে ২ বছরের (২৪ মাস) কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রুবেল মিয়া ও জাবেদ কায়সারকে আড়াই বছরের (৩০ মাস) কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। গ্রেফতারকৃতদের জঙ্গি অর্থায়নবিষয়ক আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ আইনে এবারই প্রথম সাজা প্রদান করা হলো।
আদালতের নথি অনুসারে, জঙ্গি অর্থায়নকারীদের এ গ্রুপের প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করা ছিল। মিজানুর রহমান ছিলেন তাদের দলনেতা। মামুন ছিলেন তার সহকারী। রুবেল মিয়া ছিলেন ওই দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে এবং জাবেদ কায়সার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে ছিলেন। জামান ও সোহেলকে গ্রুপের নিরাপত্তা ও নতুনকর্মী সংগ্রহের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
আদালতের নথিতে আরও দেখা যায়, জাবেদের কাছে ১ হাজার ৩৬০ ডলার জমানো ছিল। এর মধ্যে রুবেল তাকে ১ হাজার ৬০ ডলার দিয়েছিল। ওই ছয়জন ৬০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করেছিলেন।
আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুর রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক ‘জাহাঙ্গীর আলম’-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে আসার সময় মিজানুরের সঙ্গী ছিলেন জামান এবং অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক সোহাগ ইব্রাহিম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আইএস-এ যোগ দিতে রাজী করান।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর অন্যদের দলে নেওয়া হয়। রহমান ‘সশস্ত্র জিহাদ’-এর কথা উল্লেখ করে অন্যদের বলেন, তারা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ‘অবিশ্বাসীদের’ হত্যা করবেন। সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস, চ্যানেল নিউজ এশিয়া।
/এসএ/এএ/