আফগানিস্তানে এনজিও প্রতিষ্ঠানে হামলায় নিহত ১

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কেন্দ্রস্থলে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দিনে কাবুলে একের পর এক হামলার পর রাতেই নতুন এ হামলা চালানো হলো। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হামলার পর কয়েকজন জিম্মিসহ হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অবস্থান করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সারা রাত থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটির আশেপাশের বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকী জানান, সোমবার রাতে পামলারেনা নামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে এ হামলা চালানো হয়। তালেবান জঙ্গিদের জোড়া বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা চালানো হয়।

সাদিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ধারণা দুই হামলাকারী ওই ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। আর সেখানে এ হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও অপর ছয়জন আহত হয়েছে।’

এই এনজিওটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগি প্রতিষ্ঠান কিনা তা জানা যায়নি। এ হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে কাবুলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে জোড়া বোমা হামলা চালিয়েছে তালেবান। হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই নিরাপত্তারক্ষী বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে তালেবানের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ সদস্যকে হত্যা করতে সমর্থ হয়েছে তারা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছে, নিহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর একজন জেনারেল পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। সোমবারের এই হামলায় প্রায় একশ জনের আহত হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স। আফগান স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, বিস্তারিত জানা গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাবুলে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও এমন হামলা হলো। তালেবানরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

তার আগে এ বছর ২৩ জুলাই তারিখে কাবুলের বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় অন্কতত ৮০- জনকে।  ওই হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।  সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি।

/এএ/