মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকের মজুরি থেকে কর কাটা যাবে না

nonameমালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর কাটতে পারবেন না নিয়োগকর্তারা। ২০১৭ সালের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হওয়া নিয়োগকর্তার আবশ্যিক প্রতিশ্রুতি (এমপ্লয়ার ম্যান্ডেটরি কমিটমেন্ট- ইএমসি) অনুসারে এ নিয়ম চালু হচ্ছে। ইএমসি অনুসারে শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবেন নিয়োগকর্তারা। রবিবার মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এ খবর জানিয়েছে।

ইএমসির আওতায় শ্রমিক নিয়োগের সব প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যার মধ্যে রয়েছে আবেদন, কর্মসংস্থান ও দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের সবকিছুর দায় থাকবে নিয়োগকর্তাদের ওপর।

নতুন চালু হওয়া এই বিধি অনুসারে, এখন নিয়োগকর্তাদের বিদেশি শ্রমিকদের বার্ষিক কর দিতে হবে এবং তা মজুরি থেকে কেটে রাখা যাবে না। শ্রমিকদের ন্যূনতম মানসম্পন্ন থাকার ব্যবস্থা করারও দায়িত্ব থাকবে নিয়োগকর্তার।

শনিবার মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমাদ জাহিদ হামিদি জানান, এই নীতির কারণে শ্রমিকদের কল্যাণের সব দায়িত্ব থাকবে নিয়োগকর্তার। তিনি বলেন, সরকার একটি অঙ্গীকারনামা তৈরি করবে যাতে নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ থাকবে। বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জামানতের হারও পুনর্বিবেচনা করছি আমরা। এখন যে জামানত আছে তার পরিমাণ অনেক কম।

গত বছর বিদেশি শ্রমিকদের কর ব্যবস্থাও পরিবর্তন করে দেশটি। আগে শ্রমিকদের ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে কর আদায় করা হতো। ফেব্রুয়ারি থেকে মাত্র দুটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের নিবন্ধন করে কর দিতে হবে।  উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের শ্রমিকদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রিংগিত এবং চাষাবাদ ও কৃষিখাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ রিংগিত কর দিতে হবে। নিয়োগকর্তাদের এ কর দেওয়ার কথা থাকলেও তারা শ্রমিকদের মজুরি থেকে তা কেটে রাখতেন।

২০১৬ সালের শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ঘোষণার আলোকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়াতে অবস্থান করা ৩ লাখ বাংলাদেশিকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। এছাড়া  ফেব্রুয়ারিতেই জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে পাঁচটি খাতে কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নিতে সমঝোতা স্মারকে সই করে মালয়েশিয়া। সূত্র: দ্য স্টার।

/এএ/