আফগানিস্তানে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই পুরুষদের প্রাধান্য। সংবাদমাধ্যমও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নারী সংবাদ পাঠিকাকে উপস্থিত হতে দেখা গেলেও নারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ একটি চ্যানেল বিরাট উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
চ্যানেলটির উদ্বোধনী সম্প্রচারে নারীদের ওপর সহিংসতার কারণ ও আফগান নারী সমাজে পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
চ্যানেলটিতে প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন ২০ বছরের খাতিরা আহমাদি। তিনি বলেন, নারীদের জন্য টেলিভিশন চালু হওয়ায় আমি খুব খুশি। কারণ আমাদের সমাজের নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। এই চ্যানেলটি নারীদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে সহযোগিতা করবে।
উদ্যোক্তা হামিদ সামার জ্যান টিভি গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, কাবুলের মতো বড় শহরগুলোর নারীদের কথা বিবেচনা করেই চ্যানেলটি চালু করা হয়েছে। কারণ এসব শহরের নারীরা নিজেদের জীবন সংশ্লিষ্ট খবর ও আলোচনা শুনতে আগ্রহী।
হামিদ সামার বলেন, ‘নারীদের অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের অধিকার অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু নারীদের জন্য বিশেষ কিছু করতে কখনও দেখি। তাই আমরা চ্যানেলটি গড়ে তুলেছি।’
এই চ্যানেলটি কম দামি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কাবুলে চ্যানেলটির স্টুডিও রয়েছে। মূলত চ্যানেলটি বিভিন্ন ধরনের টক শো এবং স্বাস্থ্য ও সংগীত বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
চ্যানেলটিতে তরুণ নারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের। তবে চ্যানেলটিতে ১৬ জন পুরুষ টেকনিশিয়ান রয়েছেন। যারা পর্দার আড়ালে কাজ করেন। গ্রাফিক্স, ক্যামেরা চালানো ও সম্পাদনা এবং নারী সহকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেন এসব পুরুষকর্মী। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/