যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠী ও ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে হামলায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি একটি দাতব্য সংস্থা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। সোমবার দাতব্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংস্থাটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নতুন গঠিত দলটির নাম মিল্লি মুসলিম লিগ। দলটি জামাত-উদ-দাওয়া’র আদর্শ অনুসরণ করবে। জামাত-উদ-দাওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার ফ্রন্ট হিসেবে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাফিজ সাইদ। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে হামলা চালিয়ে ১৬৬জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে হাফিজ সাইদের বিরুদ্ধে।
নব গঠিত দলটির সভাপতি সাইফুল্লাহ খালিদ বলেন, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে আমরা পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ইসলামি ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
দলটির মুখপাত্র হিসেবে জামাত-উদ-দাওয়া’র এক কর্মী তাবিস কাইয়ুম দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সময় আমাদের বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।
লস্কর-ই-তৈয়বার ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে জামাত-উদ-দাওয়া। তাদের দাবি, তারা ইসলামি দাতব্য সংস্থা হিসেবে মানবিক কাজ করে থাকে।
কাইয়ুম জানান, লাহোরে গৃহবন্দি থাকায় নতুন দলের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি সাইদ। তবে সাইদসহ জামাত-উদ-দাওয়া’র বেশ কয়েক জন নেতা নতুন দলের সঙ্গে জড়িত থাকবেন।
দলের প্রধান খালিদ বলেন, আমরা হাফিজ সাইদের দ্রুত মুক্তি চাই। তিনি মুক্ত হলে আমরা তার দিকনির্দেশনা চাইব এবং জিজ্ঞেস করব রাজনৈতিক দলে তিনি কী ভূমিকা নিতে চান।
অতীতে একাধিকবার সাইদ গণতন্ত্র ও নির্বাচনি ব্যবস্থাকে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব ইসলাম সম্মত নয়।
সাইদকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই গৃহবন্দি রয়েছেন হাফিজ। এর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানে মুক্তভাবেই চলাফেরা করেছেন তিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তাকেই মনে করা হয়।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈয়বা ও এর অঙ্গ সংগঠন পাকিস্তানে তহবিল সংগ্রহ এবং অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষিতে জঙ্গিদের আরও ভালো প্রশ্রয় ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছে। নতুন দল গঠনের অর্থ হলো সমালোচনার মুখে থাকা জামাত-উদ-দাওয়া নিজেদের আড়াল করতে চায়।
ভারতসহ পশ্চিমা দেশগুলো জঙ্গিবাদকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এসব জঙ্গিদের অঞ্চলটিতে ছায়াযুদ্ধে ব্যবহার করছে বলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতির বিষয়টি সব সময় অস্বীকার করে আসছে ইসলামাবাদ। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/