আল-কায়েদা, আইএসের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার আরসা’র

মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রামরত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) পক্ষ থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এইসব জঙ্গি সংগঠনের  যোদ্ধাদের সংঘর্ষ কবলিত অঞ্চলে প্রবেশের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আরসা দাবি করেছে, আল-কায়েদা, আইএস, লস্কর-ই-তৈয়বা বা অন্য কোনও বহুজাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

আরসার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরকানে এইসব সংগঠনের উপস্থিতিকে স্বাগত জানানো হবে না। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাতে মোড় না নেয় সেজন্য আরাকানে প্রবেশ না করার জন্য বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের আরেক নাম হচ্ছে আরাকান। এখানে দেশটির রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৮ লাখ মানুষ বাস করে।

বিবৃতিতে, রাখাইনের গুরুতর মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আরসার পক্ষ থেকে ত্রাণ সংস্থা ও এনজিও সংস্থাকে সহিংসতার শিকার জনগোষ্ঠীকে জীবন বাঁচানোর জন্য সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত মাসে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে আরসার হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। সামরিক অভিযানে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর সহিংসতার মুখে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

আরসা এর আগে হরকাতুল ইয়াকিন নামে পরিচিত ছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে মংগডু এ রাথেডাউং শহরে ৯ পুলিশ সদস্যকে হত্যার মধ্য সংস্থাটি নিজেদের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিল।

সম্প্রতি আরসা একতরফা অস্ত্রবিরতি  ঘোষণা করলেও মিয়ানমার সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযানে সহিংসতা শুরু হওয়ার আল-কায়েদার পক্ষ থেকে মিয়ানমারে হামলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সূত্র: আল জাজিরা।