পাকিস্তানে ধর্মমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। শনিবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে অন্তত ছয়জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী দমন অভিযানে অংশ না নিলেও সরকারি স্থাপনার সুরক্ষা দেবে। বিক্ষোভ দমনে রাস্তায় র্যাঞ্জারদের নামানো হয়েছে। দুইদিনের টানা বিক্ষোভের মুখে রবিবার প্রতিবাদকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদি।
রবিবার সামরিক ও বেসামরিক নেতারা বিক্ষোভ দমনের বিষয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। এতে সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়া, আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দার মহাপরিচালক নাভীদ মুখতার, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবাল।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইসলামাবাদে সেনা মোতায়েন করা হবে। কারণ সংবিধানের ২৪৫ ধারা সরকার প্রয়োগ করছে। তবে সেনা সদস্যরা তেহরিক-ই-লাব্বাইকের প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে দেওয়ার কাজে অংশ নেবে না। এই কাজ করবে বেসামরিক সরকার ও পুলিশ।
জেনারেল কামার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, নিজেদের জনগণের উপর শক্তি প্রয়োগ করা উচিত হবে না। পাকিস্তানের মানুষ সেনাবাহিনীকে ভালোবাসে ও বিশ্বাস করে। সামান্য সুবিধার জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা উচিত হবে না।
সেনাপ্রধান বেসরকারি টেলিভিশনের সম্প্রচার চালু করারও আহ্বান জানান।
রবিবার প্রতিবাদকারীদের ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির আইনমন্ত্রী। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্পূর্ণ বিশ্বাসী।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার (ব্লাসফেমি) অভিযোগে বিক্ষোভ করে আসছে লস্কর-ই-লাব্বাইকের সদস্যরা। লাহোর, করাচিসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শনিবার বিকেলেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার। সূত্র: সিএনএন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।