উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ যে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আঘাত করতে সক্ষম হতে পারে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা এই কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এখবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ওয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রকে দেশটির সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এটির ওয়ারহেড আগের ওয়াসং-১৪’র চেয়ে বড়।
মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদন দেশটির আইনপ্রণেতাদের কাছে তুলে ধরে। এতে বড় ধরনের পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার যে দাবি উত্তর কোরিয়া করে আসছে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়নি ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে কিনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুল আঘাত ও বিস্ফোরণ ও বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করতে সক্ষম হবে কিনা তা জানতে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন।
বুধবার দিনের আলো না ফুটতেই হোয়াসং-১৫ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। পরে তা জাপানের পানিসীমায় পতিত হয়। পিয়ংইয়ং এর দাবি, এ ক্ষেপণাস্ত্রটি সবচেয়ে শক্তিশালী। উত্তর কোরিয়া আগে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছিল সেগুলোর চেয়ে বেশি উঁচু দিয়ে উড়ে গেছে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, পিয়ংইয়ং পারমাণবিক দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪,৪৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়েছে এবং ৫৩ মিনিটে ৫৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির উঃক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে শেষ পর্যন্ত আমরা উপলব্ধি করেছি পারমাণবিক শক্তির দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জন ও রকেট শক্তি তৈরির পেছনে বিশাল ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও স্থানে সেটি পৌঁছানো সম্ভব।