উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক আলোচনায় বসতেও সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিকে উচ্চ পদস্থ একটি প্রতিনিধি দল ও চিয়ারিং স্কোয়াড পাঠাবে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার সময় উত্তর কোরীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রসঙ্গ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের ছোড়া রকেট ও পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় সিউল কেয়াসং শিল্প এলাকার একটি যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প বাতিল করার পর দুই কোরিয়ার সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এর পরপরই উত্তর কোরিয়া দক্ষিণের সঙ্গে টেলিফোনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। তবে সম্প্রতি শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণে দেশটির শীর্ষনেতা কিম জং উনের আগ্রহের পর উত্তেজনা খানিকটা কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিমের ভাষণের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে টেলিফোন হটলাইন ফের চালু হয়; এরপর দক্ষিণের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয় পিয়ংইয়ং। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে দুই কোরিয়ার সীমান্ত এলাকার ‘যুদ্ধবিরতি গ্রাম’ পানমুনজমে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। সূত্র: রয়টার্স