মিয়ানমারের মান্দালায় অঞ্চলে একটি শস্য গুদাম নির্মাণের জন্য দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলের একটি কোম্পানি। এক বছরের মধ্যে এই গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস এখবর জানিয়েছে।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অস্ত্র বিক্রি ও সহযোগিতা করায় সমালোচনায় পড়ে ইসরায়েলও। তবে ইসরায়েল সব সমালোচনা অগ্রাহ্য করে মিয়ানমারের পাশেই থাকার অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মান্দালায় অঞ্চলে ইসরায়েলি কোম্পানির শস্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে আসলো।
ওজেড এগ্রিবিজনেস প্রজেক্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান কৃষিবিদ আবরি বার জুর জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে ১ থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলার। মিয়ানমারের স্থানীয় একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
আবরি বার জানান, স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন পরবর্তী বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন নয়। যেমন- বীজ সংরক্ষণ করা। তারা ফসল তোলা/কাটার পর দ্রুত বিক্রি করে দেয়। এতে করে অনেক সময় তারা ভালো মূল্য পায় না।
এই কর্মকর্তা মনে করেন, মিয়ানমারের কৃষি খাতকে উন্নত ও লাভজনক করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। এই দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষিতে জড়িত। কিন্তু দেশটির জিডিপিতে কৃষির অবদান মাত্র ৩৫ শতাংশ।
ইয়াঙ্গুনে ইসরায়েল দূতাবাসের মিশন উপপ্রধান নির বালজাম জানান, কৃষির উন্নতির জন্য মিয়ানমার ও ইসরায়েলের সরকারি ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতার বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে।