জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারকে ‘অস্থিতিশীল’ করার অভিযোগ ফিলিপাইনের

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তেতেকে লক্ষ্য করে বাজে মন্তব্য করার অভিযোগের পরিবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের কর্মকর্তা হয়েও তিনি দুতার্তে সরকারের মতো একটি বৈধ সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলেতে চক্রান্ত হওয়ার দাবি তুলেছেন। তার মতে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা স্বার্থান্বেসী মহলের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। একজন কর্মকর্তা কর্তৃক ফিলিপাইনের মতো একটি সদস্য দেশের নেতাকে অপমান করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক ঘটনা তুলে ধরেছে তাদের প্রতিবেদনে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালান পিটার কেটানো

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দুতার্তের বিরুদ্ধে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ’ মন্তব্য আবার করলে ফিলিপাইনের পক্ষ থেকেও একই রকম মন্তব্য করা হবে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মন্তব্য করেছেন তা ঘটেছিল এক সংবাদ সম্মেলনে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দুতার্তের উচিত মানসিক চিকিৎসা করানো। কঠিন ভাষায় লেখা বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালান পিটার কেটানো বলেছেন, ‘জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং তার কর্তৃত্বের সীমা লঙ্ঘন করে যেভাবে একটি সদস্য রাষ্ট্রের নেতাকে অপমান করেছেন তাতে ফিলিপাইন ক্ষুব্ধ। মানবাধিকার পরিষদ যদি এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ওই ঘটনা বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে। কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, যারা মানবাধিকারকে রাজনীতিকরণ করে ও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বৈধ সরকারকে ছোট করে দেখাতে চায় তাদের কারণে মানবাধিকার পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের যে কেউ একই অবস্থার শিকার হতে পারে।’

জেইদ রাদ-আল হুসেইন তিনি আরও বলেছেন, ‘জাতিসংঘের কর্মকর্তা নিজেও বুঝতে পারছেন না যে একটি বৈধ সরকারকে অস্থিতিশীল করতে একটি স্বার্থান্বেসী মহল তাকে ব্যবহার করছে। ’ জেইদ রাদ-আল হুসেইনের মন্তব্য এসেছিল ফিলিপাইনের আইন মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগের প্রেক্ষিতে। আইন মন্ত্রণালয় এমন একটি তালিকা আদালতে পেশ করেছিল যে তালিকার ব্যক্তিদের ‘বামপন্থি গেরিলা’ হিসেবে তারা পরিচিত করাতে চেয়েছিল। আদালতের কাছে তাদের আর্জি ছিল, ওই ব্যক্তিদের যেন ‘সমাজতন্ত্রী গেরিলা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হয়। ৬০০ জন ‘সন্ত্রাসীর’ ওই তালিকায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ভিক্টোরিয়া তলি-কর্পাজের নামও ছিল।
২০১৪ সালে কর্পাজকে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয় জাতিসংঘ। অথচ তাকেই ফিলিপাইন মাওবাদী বিদ্রোহীদের তালিকভুক্ত করে আদালতে গিয়েছিল ফিলিপাইনের আইন মন্ত্রণালয়। ফিলিপাইনের ওই তালিকাকে ‘ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া তলি-কর্পাজ। তখন জাইদ রাদ-আল হুসেইন বলেছিলেন, জাতিসংঘের বিশেষ দূতের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের এমন আচরণকে বিনা বাধায় পার পেয়ে যেতে দেওয়া হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নিশ্চয় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি দুতার্তের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন, ‘তার মানসিক পরীক্ষা করানো উচিত’।

ভিক্টোরিয়া তলি-কর্পাজএবার সেই মন্তব্যের জেরে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালান পিটার কেটানো বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ যে মন্তব্যে ‘ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের ওপর কালি ছিটানো হয়েছে, তাকে ফিলিপাইন একটি বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছে।’ দুতার্তে এর আগেও বারবার জাতিসংঘের আইনবহির্ভূত হত্যা বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ডকে অপমান করেছেন। মাদক নির্মূলে ম্যানিলা বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজনকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগে জাতিসংঘের ওই বিশেষ দূত ফিলিপাইন সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন। ফিলিপাইনের সরকার তার সমালোচনাকে পক্ষপাতমূলক আখ্যা দিয়ে বলেছিল, তিনি যোগ্য নন। মাদক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের চালানো ‘যুদ্ধের’ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল ম্যানিলা। তবে ওই তদন্তে ক্যালামার্ডের নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছিল তারা।