আর্থিক অনিয়মের দায়ে ভিয়েতনামের একজন সাবেক পলিটব্যুরো সদস্যের সাজা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার অনিয়মের দায়ে আদালত অভিযুক্তকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে অন্য অভিযোগে তাকে আরও ১৩ বছরের কারাদণ্ড দণ্ডিত করেছিল আদালত। রয়টার্সকে অভিযুক্ত ডিনহা লা থাংয়ের আইনজীবী ডাও হু বলেছেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইচ্ছাকৃত ব্যত্যয় ঘটানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে। ভিয়েতনামের সংবাদপত্র ভিএন এক্সপ্রেস অভিযুক্ত ডিনহা লা থাংয়ের আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত ডিনহা লা থাং দাবি করেছেন, ওই আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তার বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছে।
ওশেন কমার্শিয়াল জয়েন্ট স্টক ব্যাংকে পেট্রোভিয়েতনামের বিনিয়োগে সাড়ে তিন কোটি ডলার ক্ষতি হওয়ায় ৫৭ বছর বয়সী পলিট ব্যুরোর পদত্যাগী সদস্য ডিনহা লা থাংয়কে অভিযুক্ত করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি না নিয়েই ২০০৮ সালে পেট্রোভিয়েতনামের অর্থ ওশেন ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছিলেন সংস্থাটির ওই সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অর্থ এভাবে বিনিয়োগের আগে তিনি জানতেন, ব্যাংকটির সক্ষমতা ভালো নয়। বড় লোকসান করা ওশেন ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব ২০১৫ সালে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত জানুয়ারিতে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। থাং ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পেট্রোভিয়েতনামের চেয়ারম্যান ছিলেন। বৃহস্পতিবার পিপলস কোর্ট অফ হ্যানয়ে চলা ওই মামলায় থাং ছাড়াও আরও ৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা ১৫ মাসের প্রবেশন থেকে শুরু করে ১৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছে। মামলার শুনানি শুরু হওয়ার দশ দিনের মধ্যেই আদালত এই রায় দিয়েছে।
আদালতে থাং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, ওই বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি পেট্রোভিয়েতনামের অন্যন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং তাদের সম্মতিও পেয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীকেও ওই বিনিয়োগের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। যে সময় তিনি ওশেন ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেসময় ব্যাংকটি লাভজনক ছিল। কিন্তু আদালত তার বক্তব্য খারিজ করে দিয়ে বলেছে, ওশেন ব্যাংক ওই সময় লাভজনক থাকার অসত্য প্রতিবেদন দিয়েছিল। আর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ঢাকতেই থাং ওশেন ব্যাংকের শেয়ার কেনার অজুহাত সামনে এনেছেন।
তার আইনজীবী জানিয়েছেন, নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও থাং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় গত বছর কমিউনিস্ট পার্টি অফ ভিয়েতনামের পলিটব্যুরো থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন ডিনহা লা থাং।